শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ, গ্রাহকদের আতঙ্ক

এমএ কাইয়ুম মাইজভান্ডারি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জঃ
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৬ এএম
শেয়ার করুন:
শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ, গ্রাহকদের আতঙ্ক

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকার আমানত আত্মসাৎ করে এক ব্যাংক কর্মকর্তা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ) দুপুরে এ ঘটনা জানাজানি হলে শত শত আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ গ্রাহক ব্যাংকের মূল ফটকে ভিড় জমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংক চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যাংকের এক নারী গ্রাহক তাঁর স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) খোঁজ নিতে এলে জালিয়াতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। এরপর একে একে অন্তত ১৪টি হিসাব (অ্যাকাউন্ট) থেকে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসে। তবে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা ব্যাংকটির ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ গত দুই দিন ধরেই পলাতক রয়েছেন।

টাকা খোয়ানো গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ জমার রসিদে নিজ স্বাক্ষর ও সিলমোহর দিয়ে গ্রাহকদের দিতেন। কিন্তু চাতুর্যের সাথে সেই টাকা ব্যাংকের মূল কেন্দ্রীয় সিস্টেমে (সার্ভারে) জমা করতেন না। 

নুরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক জানান, তাঁর শ্যালক মো. বাহাদুর আইভরি কোস্ট প্রবাসী। তাঁর অ্যাকাউন্টে ৮৫ লাখ টাকা ছিল। অ্যাকাউন্ট খোলার পর তিনি কখনো চেক বই-ই তোলেননি। কিন্তু ব্যাংকে এসে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই অবশিষ্ট নেই। অভিযোগ উঠেছে, অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকের ফোন নম্বর পরিবর্তন করে পুরো টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাশ অফিসার সোহাগ নিজের নামে প্রায় ৩০ লাখ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা উত্তোলন করেছেন।

মনিকা বেগম নামের অপর এক গ্রাহক ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "জীবনের সব সঞ্চয় এফডিআর হিসেবে এই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন ব্যাংকে এসে শুনছি অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই জমা পড়েনি। সব টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জালিয়াতি করে সরিয়ে ফেলেছে।"

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, "বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। পুরো ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া ঠিক কত টাকা লোপাট হয়েছে কিংবা এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করছি, তাঁদের আমানতের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।"

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আনিসুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাংকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।