ফুলবাড়ীয়ায় নারীকে হেনস্তা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সাবেক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

মোঃ শফিকুল ইসলাম, ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি, ময়মনসিংহঃ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন:
ফুলবাড়ীয়ায় নারীকে হেনস্তা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সাবেক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় এক নারীকে কুপ্রস্তাব প্রদান, শারীরিকভাবে হেনস্তা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হযরত আলী মন্ডল উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন (৪৫) ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান কর্মকার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহানারা খাতুনের স্বামী দুলাল মিয়া একটি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে ছিলেন। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীকে দ্রুত কারামুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে জাহানারার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে আসছিলেন হযরত আলী। 

জাহানারা খাতুনের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে হযরত আলী তাঁর ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় তাঁকে খাটে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি ধস্তাধস্তি করে নিজেকে রক্ষা করেন এবং চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত সটকে পড়েন। অতীতে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ওই নারী আরও জানান, হযরত আলী দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ বলেন, "আমার শাশুড়ির সঙ্গে হযরত আলী দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্বামীকে ছাড়ানোর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ঢুকে তিনি জোরপূর্বক হেনস্তার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর আমার শাশুড়ি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

একই দাবি জানিয়ে জাহানারা খাতুনের মা খাদিজা বেগম বলেন, "আমার মেয়ের ওপর অন্যায়ভাবে এমন পাশবিক আচরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।"

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। ওই নেতার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন যেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হযরত আলী মন্ডল। তিনি দাবি করেন, "আমার বিরুদ্ধে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ওই নারীর স্বামী বিদেশে টাকার লেনদেন মামলায় জেলে ছিলেন। ঘটনার দিন জাহানারা নিজেই আমাকে ডেকে তাঁর ঘরে নিয়ে যান। আমি সেখানে যেতে না চাইলেও জোরপূর্বক তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন।"

এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ বলেন, "ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তা ছাড়া বর্তমানে যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক বিষয়গুলো ফারুক সাহেবের বলয়ভুক্ত ব্যক্তিরা দেখছেন। আমি মূলত বিএনপির মূলধারার রাজনীতি নিয়েই সক্রিয় আছি।"

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।