ইনানীর রিসোর্টে আগুন: ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে মিলল নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহাবশেষ, নিহত বেড়ে ১১

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৩ পিএম
শেয়ার করুন:
ইনানীর রিসোর্টে আগুন: ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে মিলল নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহাবশেষ, নিহত বেড়ে ১১

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকত সংলগ্ন ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (৩৫) দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক ঘণ্টার বিশেষ তল্লাশি শেষে পুলিশ ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার করে। 

ঘটনাস্থলে মরদেহের গলায় থাকা একটি লকেট দেখে মুক্তার পরিচয় নিশ্চিত করেন তাঁর স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুল’-এর শিক্ষিকা ছিলেন। মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তের কথা জানায়। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে স্বজনদের দেওয়া ডিএনএ নমুনার মিল না থাকায় মুক্তার পরিণতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও রহস্য তৈরি হয়। এরপরই পরিবারের দাবির মুখে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে পুনরায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ মূল ভবনের পাশাপাশি আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়েও অভিযান চালানো হয়।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার সঙ্গে থাকা দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। সে সময় মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তাঁর বান্ধবীরা বেঁচে ফিরলেও কক্ষের ভেতরে আটকা পড়ে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যান মুক্তা।

এদিকে উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিক্ষিকার পরিবার। মুক্তার ফুফাতো ভাই হাসিবুল ইসলামের অভিযোগ, "শুরু থেকেই মুক্তার বান্ধবীরা বারবার জানিয়েছিলেন যে অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি রিসোর্টের ভেতরেই ছিলেন। কিন্তু উদ্ধারকারী দল বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পরে দুলাভাই (মুক্তার স্বামী) একপ্রকার জোর করেই প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালান। শেষ পর্যন্ত ১০ দিন পর বোনের গলায় থাকা লকেট দেখে তাঁর দেহাবশেষ শনাক্ত করতে হলো। শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে অনুসন্ধান চালালে হয়তো আরও আগেই বোনের সন্ধান পাওয়া যেত।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।