যুবলীগ নেতার জামিনের পক্ষে আদালতে ২০ বিএনপি নেতার হলফনামা

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ জুলাই, ২০২৬ ৪:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
যুবলীগ নেতার জামিনের পক্ষে আদালতে ২০ বিএনপি নেতার হলফনামা

ঝালকাঠিতে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া মামলায় কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতাকে নির্দোষ দাবি করে তার জামিনের পক্ষে আদালতে হলফনামা (এফিডেভিট) দাখিল করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২০ জন নেতা। কারাগারে আটক ওই যুবলীগ নেতার নাম জাকির হোসেন শামীম (৪০)। 

পুলিশের প্রতিবেদনে শামীমকে যুবলীগ নেতা এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, বিএনপি নেতারা আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় দাবি করেছেন—তিনি মূলত স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মী এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। 

গত ১ জুলাই ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শামীমের জামিন শুনানির সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই দিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মতিয়ার রহমান আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিনকে ভর্ৎসনা করেন আদালত। এ সময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন জামিন শুনানিতে হলফনামা দাখিল ও আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটি বর্তমানে ঝালকাঠি শহর ও আদালতপাড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মামলার বিবরণী ও গ্রেপ্তার
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুমন মণ্ডল বাদী হয়ে ১৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরীফসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আসামি করা হয়। 

পরবর্তীতে, গত ১৬ জুন ঝালকাঠি থানা পুলিশ উক্ত মামলায় (জিআর-২০৫/২৪) সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জাকির হোসেন শামীমকে গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার হওয়া শামীম বিএনপি নেতা ও এপিপি মিজানুর রহমান মুবিনের আপন ভগ্নিপতি।

হলফনামায় যা দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা
আদালতে দাখিল করা হলফনামায় (নম্বর-৭৩০/২৬) স্বাক্ষরকারী বিএনপি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন খোকন, শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান, জেলা বিএনপির সদস্য ও এপিপি মিজানুর রহমান মুবিন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সরদার সাফায়েত হোসেনসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় ২০ জন নেতা।

হলফনামায় নেতারা উল্লেখ করেন, তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা এবং এই মামলার সাক্ষী। তারা হলফ করে দাবি করেন, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির হামলার ঘটনায় জাকির হোসেন শামীম কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। ঘটনার সময় বা আশেপাশে তাকে দেখা যায়নি এবং সিসিটিভি ফুটেজেও তার কোনো উপস্থিতি নেই। 

নেতারা আরও দাবি করেন, শামীম মূলত একটি বিএনপি ঘরানার পরিবারের সন্তান। তার বাবা সুলতান হোসেন খান ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। শামীমের ছোট ভাই পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মা পৌর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি। শামীম নিজে বর্তমানে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান এবং পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান বলেন, "আমরা মামলার সাক্ষী হিসেবে একজন নির্দোষ ব্যক্তির পক্ষে আদালতে এই হলফনামা দিয়েছি।"

অন্যদিকে মামলার বাদী ও পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুমন মণ্ডল বলেন, "জাকির হোসেন শামীম আমার দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে। আমি যতটুকু জানি, তিনি অতীতে একসময় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে তার একাধিক ছবিও রয়েছে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।