নারায়ণগঞ্জে একের পর এক গ্যাস বিস্ফোরণ কেন

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ জুন, ২০২৬ ১০:৫২ এএম
শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জে একের পর এক গ্যাস বিস্ফোরণ কেন

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে যেন থামছেই না গ্যাস বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মিছিল। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা—সবখানেই যেন লুকিয়ে আছে মরণফাঁদ। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে একের পর এক গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঘটনাগুলো
চলতি বছরের মে মাসের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত ১৩ মে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট পাওয়ার প্ল্যান্টের ক্যান্টিনে গ্যাস বিস্ফোরণে ১২ জন দগ্ধ হন। এর আগে ১০ ও ১১ মে ফতুল্লার পৃথক দুটি এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে শিশুসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত জেলায় অন্তত ২৮৮টি গ্যাস লিকেজ ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।

জনগণের আতঙ্ক ও ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাসের গন্ধ এখন তাদের নিত্যসঙ্গী। কুতুবপুরের বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার বলেন, "রাতে ঘুমানোর আগে ভয় লাগে, কখন কী হয়। আমরা শুধু আশ্বাস চাই না, নিরাপদ পরিবেশ চাই।" এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার পর লোক দেখানো অভিযান চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।

অব্যবস্থাপনা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
শিল্পাঞ্চলে অবৈধ গ্যাস সংযোগের শক্তিশালী সিন্ডিকেট, নিম্নমানের পাইপলাইন এবং তিতাস গ্যাসের তদারকির অভাবকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এদিকে, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ লাইনগুলো প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সচেতনতা ও করণীয়
বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের মতে, সচেতনতার অভাবেই অনেক সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে। গ্যাসের গন্ধ পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। এসময় কোনো অবস্থাতেই বৈদ্যুতিক সুইচ অন-অফ করা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি, নিয়মিত চুলার রেগুলেটর ও পাইপলাইন পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন দুটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে:
১. তিতাস গ্যাসের সাথে সমন্বয় করে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস লাইনগুলোর নিরাপত্তা যাচাই এবং দ্রুত সংস্কার বা প্রতিস্থাপন।
২. জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা জোরদার করা।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, "গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সবসময় সচেষ্ট।"

নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখন কেবলই চায়—একটি নিরাপদ শহর, যেখানে নিশ্চিন্তে নিশ্বাস নেওয়া যাবে, গ্যাসের আগুনের ভয়ে প্রতিটি মুহূর্তে তটস্থ থাকতে হবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।