নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু: মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও, অভিযুক্ত এসআই প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্কঃ
৮ জুন, ২০২৬ ১০:৩৬ এএম
শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু: মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও, অভিযুক্ত এসআই প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মো. জোবায়ের নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী নিহতের মরদেহ নিয়ে বন্দর মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। একই সাথে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি এবং এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ছিনতাইয়ের ঘটনা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত ৯টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন জোবায়ের। পথে বন্দর উপজেলার এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। জোবায়ের বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার (৭ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জোবায়ের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত মো. জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি সপরিবারে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ
রবিবার সন্ধ্যায় জোবায়েরের মরদেহ বন্দর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা মরদেহ নিয়ে বন্দর মডেল থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ প্রথমে তা গ্রহণ করেনি। উল্টো মামলা নেওয়ার নাম করে বন্দর থানার এসআই মাসুদ ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
এ বিষয়ে বন্দর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, এলাকাবাসী থানায় এসে তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং তারা ফিরে যান।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেহেতু পূর্বে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, তাই আপাতত তাকে অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। জোবায়েরের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মামলা না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যেহেতু আমাদের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাই সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শককে (এসআই মাসুদ) ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।