নতুন সমীকরণ নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত-এনসিপি, নেপথ্যে কী?

অনলাইন ডেস্কঃ
May 16, 2026 - 16:32
নতুন সমীকরণ নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত-এনসিপি, নেপথ্যে কী?

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে নতুন এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে পথচলার অঙ্গীকার থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত আলাদা কৌশলে এগোচ্ছে জোটের প্রধান দুই শরিক—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ইতিমধ্যে উভয় দলই পৃথকভাবে প্রার্থী ঘোষণা এবং মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে, যা জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

জামায়াতের অবস্থান: জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন ভিন্ন
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মতে, জোট মূলত জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত হয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলগতভাবেই হবে এবং এতে জোটের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যেহেতু এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও দলের স্থানীয় ভিত্তিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। দলটির লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদও স্পষ্ট করেছেন যে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা এককভাবেই লড়বেন, তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে সমঝোতার পথ খোলা থাকতে পারে।

এনসিপির শক্তি প্রদর্শন ও একক প্রস্তুতি
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই নির্বাচনকে তাদের সক্ষমতা প্রমাণের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি জানিয়েছেন, এনসিপি এককভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ১০০ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৫ মে’র মধ্যে আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের দাবি, সারা দেশে এনসিপির অনুকূলে একটি জোয়ার তৈরি হয়েছে এবং সেই শক্তিকেই তারা নির্বাচনে কাজে লাগাতে চান।

জোটের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
জামায়াত ও এনসিপির এই পৃথক অবস্থানের কারণে ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক মনে করেন, ঐক্যের স্বার্থে স্থানীয় নির্বাচনেও জোটগতভাবে একক প্রার্থী দেওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান মনে করেন, এককভাবে নির্বাচন করলেই দলগুলোর প্রকৃত জনসমর্থন যাচাই করা সম্ভব হবে।

সরকারের ইঙ্গিত ও নির্বাচনের তোড়জোড়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের এই ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার পরই রাজনৈতিক দলগুলো কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে।

নেপথ্যে কী?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত ও এনসিপি উভয়েই তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি মেপে নিতে চায়। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কার জনভিত্তি কতটুকু শক্ত, তা প্রমাণের জন্যই সম্ভবত তারা জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে লড়াইয়ের কৌশল নিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এই ভিন্ন কৌশল জোটের স্থায়ী সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। 

সব মিলিয়ে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটের শরিকদের এই 'একক লড়াইয়ের প্রস্তুতি' দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয় নাকি মিত্ররা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েই মাঠে নামে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow