কোরবানির পশুর বাজারে কুষ্টিয়ার চমক: ২ লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত, লাভের আশায় খামারিরা

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ
May 15, 2026 - 18:23
কোরবানির পশুর বাজারে কুষ্টিয়ার চমক: ২ লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত, লাভের আশায় খামারিরা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও কুষ্টিয়ার গরুর বাড়তি চাহিদা রয়েছে সারা দেশে। ক্রেতাদের এই বিপুল চাহিদা মেটাতে দৌলতপুরসহ কুষ্টিয়া জেলার খামারিরা এবার ২ লক্ষাধিক কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে এসব পশু লালন-পালন করায় বাজারের সেরা পশুটি পেতে কুষ্টিয়ার দিকেই নজর থাকে ব্যাপারী ও ক্রেতাদের।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলার প্রায় ১৯ হাজার খামার ও কৃষকের বাড়িতে এবার ২ লক্ষাধিক কোরবানির পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় পশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এই বিপুল পরিমাণ পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে সরবরাহ করা হবে।

সরেজমিনে বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও শ্রমিকরা। তবে লাভের আশা থাকলেও গো-খাদ্যের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। দৌলতপুর উপজেলার সাদীপুর গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি জিয়াউল ইসলাম বলেন, "এবার পাঁচটি গরু লালন-পালন করেছি। খৈল, ভুষি ও ঘাসসহ পশুখাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। যদি ন্যায্য দাম না পাই, তবে পুঁজি হারানো ছাড়া উপায় থাকবে না।"

খামারিদের দাবি, দেশি খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে যেন বাইরে থেকে কোনো পশু দেশে না ঢুকতে পারে। সঠিক দাম পেলে আগামীতে গরু পালনে সাধারণ মানুষ আরও আগ্রহী হবে বলে তারা মনে করেন।

এদিকে গরুর খামারগুলো জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খামারে কাজ করে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক বেকার যুবকের। খামারকর্মী তমাল হোসেন জানান, পশুর যত্ন করেই এখন তার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। আসন্ন ঈদে পশুগুলো হাটে তোলার অপেক্ষায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা।

ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন হাটে ও খামারে পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বুধবার কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগর হাটে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা এক ব্যাপারীর সঙ্গে। তিনি জানান, এবার গরুর বাজার গত বছরের তুলনায় কিছুটা চড়া। তিনি ১০টি গরু কিনেছেন যার সর্বনিম্ন দাম পড়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, যা গত বছর ১ লক্ষ টাকার নিচে ছিল।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, "জেলায় এবার ১৯ হাজার খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। কোনো ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ভেজাল খাদ্য ব্যবহার করা হয়নি। আমরা খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছি।"

কুষ্টিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী গবাদি পশু পালন খাতকে টিকিয়ে রাখতে খামারিরা এখন শুধু বাজারের স্থিতিশীলতা ও ন্যায্য মূল্যের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow