‘আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি নিজের হাতে মাটি দিমু’

অনলাইন ডেস্কঃ
May 14, 2026 - 12:34
‘আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি নিজের হাতে মাটি দিমু’

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এক যুগ আগে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৪৬ বছর বয়সী করিম মিয়া। স্বপ্ন ছিল আগত ঈদে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেবেন। কিন্তু একটি ড্রোন হামলা নিমিষেই ধুলোয় মিশিয়ে দিল সব স্বপ্ন। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নরসিংদীর এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার হরনখোলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। করিম মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। 

সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন করিমের বৃদ্ধা মা ময়না বেগম। বুকফাটা আর্তনাদ করে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলছিলেন, “আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি নিজের হাতে মাটি দিমু। দুইদিন হইয়া গেছে, এখনো আমার পোলাডারে দেখতে পারলাম না। সরকার যেন আমার ছেলের লাশটা দেশে আনে, আমি শেষবারের মতো ওরে দেখতে চাই।”

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১১ মে) রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন করিম। সে সময় হঠাৎ ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন তারা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান করিম। মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় মাতম। 

নিহতের স্ত্রী শরীফা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “গত রবিবার রাতেও ওর সাথে কথা হইছে। ও বলছিল যুদ্ধ আর কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এরপরই সব শেষ হয়ে গেল। আমাদের পৃথিবীটা এখন অন্ধকার হয়ে গেছে।” 

নিহতের বড় ভাই শরীফ শেখ জানান, একটি ঘরের ভেতর থাকা অবস্থায় ওপর থেকে আসা শক্তিশালী বিস্ফোরণে করিমের মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে লেবাননে একটি মুদির দোকানে কাজ করে পরিবারের হাল ধরে রেখেছিলেন। তার উপার্জনের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল ছিল। 

স্থানীয় প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী জানান, করিম অত্যন্ত বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের স্তব্ধতা বিরাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী। 

উল্লেখ্য, করিম মিয়া নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার হরনখোলা গ্রামের কাজম আলীর ছেলে। তার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে ভিড় করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow