হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগে বিশ্ববাজার, তেলের দাম ১১৫ ডলারের কাছাকাছি

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 9, 2026 - 10:10
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগে বিশ্ববাজার, তেলের দাম ১১৫ ডলারের কাছাকাছি

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একইসঙ্গে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে নেমে এসেছে বড় ধরনের ধস।

সোমবার সকালের এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ১১৪ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪ দশমিক ৭৮ ডলারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং ইরানের তেল ডিপোগুলোতে নতুন করে বিমান হামলার খবর বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের বিশেষজ্ঞ আদনান মাজারেই সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট। যদি হরমুজ প্রণালী আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। সোমবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৭ শতাংশের বেশি, হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশের বেশি এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ৪ শতাংশের বেশি নিচে নেমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৮ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের সামলাতে সেখানে সাময়িকভাবে লেনদেন স্থগিত (সার্কিট ব্রেকার) করতে হয়েছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সরু জলপথ দিয়ে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে লাখ লাখ ব্যারেল তেল ও এলএনজি আটকা পড়েছে। এশীয় দেশগুলো জ্বালানি সংকটে পড়ে মার্কিন গ্যাসের জন্য উচ্চমূল্য দিতে শুরু করেছে, এমনকি ইউরোপগামী গ্যাস ট্যাঙ্কারগুলোও মাঝপথ থেকে গতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।

যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই রোববার ইরান তাদের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মুজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে নিজ দেশে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চাপের মুখে থাকা মার্কিন প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের তেল অবকাঠামোতে ইসরায়েলই হামলা চালাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এতে জড়িত নয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূল করার জন্য বর্তমান তেলের মূল্যবৃদ্ধি একটি ‘সামান্য ত্যাগ’ মাত্র।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজার এখন কেবল এই সংঘাতের অবসানের অপেক্ষায় নেই, বরং জ্বালানি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—তা নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow