আগৈলঝাড়ায় ব্রীজ নির্মানে রডের পরিবর্তে বাশঁ সরেজমিনে সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
Apr 16, 2026 - 23:20
Apr 16, 2026 - 23:20
আগৈলঝাড়ায় ব্রীজ নির্মানে রডের পরিবর্তে বাশঁ  সরেজমিনে সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রীজ নির্মানে রডের পরিবর্তে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার সরেজমিন পরিদর্শনে সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা। আজ সকালে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের উপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ব্রীজটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান আগৈলঝাড়া উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। এসময় উপস্থিত স্থানীয় শতাধীক লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন মঙ্গলবার ওই ব্রীজের ঢালাইয়ের সময় ব্রীজের উত্তরের শেষ অংশে রড এর সাথে বাশের কঞ্চি সংযুক্ত করে ঢালাই দেয় ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। এলজিইডি’র প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ব্রীজের ঢালাইয়ে বাশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে ব্রীজটি ভাঙার নির্দেশ দেন।

এবিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক সাংবাদিকদের জানান ব্রীজে রডের পরিবর্তে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরে উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনে পাঠাই, তিনি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ব্রীজের ঢালাইয়ে বাশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে আমাকে অবহিত করেছেন। ব্রীজের স্ট্রাকচারটি বিগত অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের ১% এর অর্থায়নে নির্মান করা হয়েছিল। কিন্তু উপরের ঢালাই করা হয়নি। এই অর্থ বছরে ব্রীজের ঢালাই করার জন্য আবেদন এসেছে, আমরা কোন অর্থ বরাদ্দ বা অনুমোদন করিনি। স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য নিজ উদ্দ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই করেছে এবং ব্রীজের শেষ অংশে এসে রডের পরিবর্তে বাশের ব্যবহার করেছে। উপজেলা প্রকৌশলী আমাকে বলেছেন বাশের ব্যবহারের কারনে স্ট্রাকচার ও ঢালাই যথেস্ট মজবুত হয়নি। তাই ঢালাই ভেঙে সরকারী নিয়মের মধ্যে থেকে ব্রীজটি আমরা নির্মান করে দিব। আর ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করে যে আমাদের উপজেলার ভাবমূর্তি খুন্ন করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেথ্য উপজেলা রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিম বাজার খালের উপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ি সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি আয়রন ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। উক্ত ব্রীজটি নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাশেঁর কঞ্চি দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ব্রীজটি ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাচঁ ফুট প্রস্ত। ব্রীজটির ঢালাই দেওয়ার সরকারী নিয়ম রয়েছে ৫ ইঞ্জি কিন্তু ঢালাই দিয়েছে সাড়ে ৩ ইঞ্চি। আয়রন ব্রীজের দৈর্ঘের ৮ ইঞ্চি ও প্রস্তে ৬ ইঞ্চি পর পর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার দিয়েছে ১ ফুট পরপর। স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধাঁ দিলে ঠিকাদার ৫ পিচ রড এনে এবং ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম হওয়ায় স্থানীয়দের দিয়ে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট ক্রয় করে এনে ব্রীজের উত্তর পাড়ে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে মঙ্গলবার ঢালাই সম্পন্ন করে। ব্রীজ দিয়ে যাতায়াতকারী মোঃ হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন খালটি ৫৫ ফুট দৈঘ্য হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রীজের ঢালাই দিয়েছে ৪৫ ফুট।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow