ফরিদপুরে সবুজ সোনা’র মাঠ দিবসে কৃষকদের বিপুল সাড়া

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৬ জুলাই, ২০২৬ ৮:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে সবুজ সোনা’র মাঠ দিবসে কৃষকদের বিপুল সাড়া

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাত ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯’ (সবুজ সোনা) চাষাবাদ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র ফরিদপুর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)  দিনব্যাপী ফরিদপুর সদর উপজেলার হাট গোবিন্দপুর মোল্লাপাড়ায় এই মাঠ দিবস সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ. টি. এম. মোরশেদ আলম, ড. মোঃ লুৎফর রহমান ও ড. রণজিৎ কুমার ঘোষ এবং পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র ফরিদপুরের ইনচার্জ ড. মোঃ রিশাদ আব্দুল্লাহ। 

মাঠ দিবসের প্রদর্শনী ক্ষেত পরিদর্শন শেষে কৃষি বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা জানান, ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৯’ বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা একটি তোষা পাটের জাত। এটি প্রচলিত অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় ১০% থেকে ১৫% বেশি ফলন দিতে সক্ষম। বক্তারা এই জাতের বেশ কিছু অসামান্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন, এটি বপনের মাত্র ১১০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে কাটার উপযোগী হয় । যা কৃষকদের পরবর্তী ফসল রোপণের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়। এই পাটের আঁশ অত্যন্ত উজ্জ্বল, সোনালী রঙের এবং শক্তিসম্পন্ন, যার বাজার মূল্য অনেক বেশি। প্রচলিত জাতের চেয়ে এই জাতে রোগবালাই এবং পোকার আক্রমণ তুলনামূলক অনেক কম হয় ইত্যাদি।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বিজেআরআই তোষা পাট ৯ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত, যা গড়ে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩.২৫ টন আঁশ এবং ৬.৪৮ টন পাটকাঠি উৎপাদন করে। এটি লম্বা গাছ (গড় উচ্চতা ৩.০৪ মিটার), মোটা কান্ড (১৬.২৫ মিমি ব্যাস) এবং উন্নত আঁশের গুণমানের জন্য পরিচিত।

প্রদর্শনী প্লটের কৃষক মোক্তার মোল্লা তার অভিজ্ঞতা ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমি এবারই প্রথম বিজেআরআই তোষা পাট-৯ চাষ করেছি। অন্যান্য বারের চেয়ে এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। পাটের গাছগুলো সমানভাবে লম্বা ও মোটা হয়েছে। এলাকায় এই পাট দেখতে প্রতিদিন অন্য কৃষকরা আসছেন। আগামীতে আমাদের এলাকার অনেকেই এই জাতের পাট চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সমাবেশে উপস্থিত অন্য কৃষকরাও মাঠের ফলন দেখে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আগামী মৌসুমে সরকারিভাবে এই জাতের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া তারা জানান, অন্যান্য জাতের তুলনায় এ জাতটি পানিতে দীর্ঘ সময় টিকে থাকে, রোগবালাই কম হয় এবং ঝড় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না।

মাঠ দিবসের শেষ অংশে বিকেলে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষকেরা পাট চাষের ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা, সম্ভাবনা ও মাঠের অভিজ্ঞতার কথা বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরেন। উপস্থিত কৃষি বিজ্ঞানীগণ তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার বিজ্ঞান ভিত্তিক ও সহজ সমাধান মূলক পরামর্শ প্রদান করেন। উন্নত জাতের বীজ ও সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আগামীতে এই অঞ্চলে পাটের বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।