খুলনায় মসজিদে ঢুকে গুলি, দুই মুসল্লিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ জুন, ২০২৬ ৬:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন:
খুলনায় মসজিদে ঢুকে গুলি, দুই মুসল্লিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরে ফজরের নামাজ চলাকালীন মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১৪ জুন ২০২৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতপুরের পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন—মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হাকিম (৪৫) এবং সাধারণ মুসল্লি আলম মন্ডল (৫৫)। বর্তমানে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটল এই হামলা:  
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে ফজরের নামাজের সময় লোকমান হাকিম মসজিদের ভেতরে কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে চড়ে দুই সন্ত্রাসী মসজিদ প্রাঙ্গণে আসে। মোটরসাইকেলের চালকের মাথায় হেলমেট এবং পেছনে বসা ব্যক্তি ধর্মীয় পোশাকে ছিলেন। 

তারা মসজিদে প্রবেশ করে সরাসরি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে লোকমানের মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার পাশে থাকা অপর মুসল্লি আলম মন্ডলও গুলিবিদ্ধ হন। আলম মন্ডলের মাথা, গলার বাম পাশ এবং ডান হাতের বাহুতে গুলি লেগেছে। 

চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা:  
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত মসজিদে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন আলম মন্ডলের ভাগ্নে সোহেল শিপন। 

তদন্ত ও পুলিশের বক্তব্য:  
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, "আহত লোকমান হাকিম খালিশপুর এলাকায় তেলের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।"

কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে ঢুকে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।