এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের নোয়াবাদী গ্রামের মীর বাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও পারিবারিক নির্যাতনের মাধ্যমে ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ—তাঁর স্বামীর বড় ভাই, ভাবি, শাশুড়ি ও ননদেরা মিলে তাঁকে নির্যাতন করেছেন এবং ঘর থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে নোয়াবাদী গ্রামের মো. শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে মোসা. সীমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে শরীফ উদ্দিন ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরবর্তীতে তাঁর পরিশ্রম দেখে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় তাঁকে দুবাই পাঠানো হয়। এর আগে লেবাননে থাকাকালে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা দেশে পাঠিয়েছিলেন, যার কোনো সঠিক হিসাব তাঁর পরিবার দিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে দুবাইয়ে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দেশে একটি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন শরীফ উদ্দিন।
ভুক্তভোগী সীমা আক্তার জানান, তাঁর স্বামীর কষ্টার্জিত প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। তবে ভবনটি নির্মাণকে কেন্দ্র করেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে সীমা আক্তারের ওপর তাঁর ভাসুর মো. জুলহাস মিয়া, জা লাকি বেগম, শাশুড়ি ও ননদেরা বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন ও হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।
সীমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, "স্বামী বিদেশে থাকায় আমি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের এই নির্যাতন সহ্য করে আসছি। একপর্যায়ে আমাকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘর নির্মাণের কাজের জন্য রাখা নগদ ৫ লাখ টাকা এবং আমার গলার প্রায় ৬ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ভাসুর জুলহাস মিয়া ও জা লাকি বেগম প্রবাসে থাকা তাঁর স্বামীকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। শরীফ উদ্দিন দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গুম করা এবং তাঁর স্বপ্নের বাড়িটি ভেঙে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এলাকার লোকজন জুলহাস মিয়ার ভয়ে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও তাঁর দাবি।
ভুক্তভোগী সীমা আক্তার বলেন, "যে বাড়িটি আমার স্বামীর রক্ত জল করা টাকায় তৈরি, আজ সেখানেই আমার থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।"
এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সালিশকারক ও সমাজসেবক মো. শাহ আলম মীর বলেন, "আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। বাড়িটি নির্মাণে প্রবাসী শরীফ উদ্দিনের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় হয়েছে, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে স্পষ্ট তথ্য রয়েছে। কিন্তু একাধিক বৈঠকের পরও প্রতিপক্ষের অনমনীয়তার কারণে কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় আমরা ভুক্তভোগীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।"
সালিশে কোনো সমাধান না পেয়ে অবশেষে সীমা আক্তার বিজয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি নিজের ও স্বামীর জীবনের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তাধীন রয়েছে। এলাকার সচেতন মহল ও এলাকাবাসী এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
জাতীয় | ১৫ জুন, ২০২৬
ফুটবল | ১৫ জুন, ২০২৬
পাবনা | ১৫ জুন, ২০২৬
ভারত | ১৫ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ১৫ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।