চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্কঃ
২৯ জুলাই, ২০২৬ ৩:৩২ পিএম
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ও বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম ও যশোর পুলিশের এক যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।**

যশোর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই জেলার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।

অপরাধ জগতে উত্থান ও নৃশংসতার চিত্র
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামে ডেভিড ইমনের দ্রুত উত্থান ঘটে। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অপরাধ জগতে যুক্ত হয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হয়ে ওঠেন।

তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে:
জোড়া খুন: গত বছরের ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম শহরের চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মুখে প্রাইভেট কারে গুলি করে দুইজনকে হত্যা।
পতেঙ্গা ও বাবলা হত্যা: গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে সন্ত্রাসী ‘ঢাকাইয়া আকবর’ খুন এবং ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা।
ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি: চলতি বছরের ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের ‘ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)’ নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকাসহ মালামাল লুট।

অনুসন্ধানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘থ্রি-টায়ার’ সিন্ডিকেট

তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এই চক্রটি মূলত একটি সুনির্দিষ্ট **‘থ্রি-টায়ার’ (তিন স্তর)** কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছে:

১. প্রথম স্তর (রিমোট কন্ট্রোল মাস্টারমাইন্ড):
এই স্তরের শীর্ষে রয়েছেন বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ হোসেন খান (বড় সাজ্জাদ) এবং হাবীব খানের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে তারা ফ্রান্স বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থেকে সরাসরি কোনো শারীরিক ঝুঁকি ছাড়াই ইন্টারনেট কলিং অ্যাপ ব্যবহার করে বাংলাদেশে চাঁদা দাবি করেন। 

২. দ্বিতীয় স্তর (হোয়াইট কলার ইনফর্মার ও প্রধান সহযোগী):
এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক স্তর। এর মধ্যে সমাজের কিছু অসাধু পেশাজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা রয়েছেন। পাশাপাশি ডেভিড ইমনের মতো উঠতি সন্ত্রাসীরা এই স্তরে নেতৃত্ব দেন। তারা টার্গেট ব্যক্তির নতুন বাড়ি, ব্যাংক বিবরণী বা পরিবারের নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে থাকা মূল গডফাদারদের কাছে পাঠাতেন।

৩. তৃতীয় স্তর (লোকাল হিট স্কোয়াড):
এরা মূলত স্থানীয় কিশোর গ্যাং বা ভাসমান অপরাধী। দালালদের মাধ্যমে মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া খেটে এরা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে গুলি ছোঁড়া, আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর চালিয়ে আতঙ্ক তৈরি করত।

ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হওয়ায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।