শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, উত্তাল ক্যাম্পাস

অনলাইন ডেস্কঃ
১৯ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩৭ পিএম
শেয়ার করুন:
শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, উত্তাল ক্যাম্পাস

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে মতামত দেওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে আজ রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) ছাত্র। জানা যায়, শাহপরাণ হলের খাবারের মান নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্য করার জেরে গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় তিনি মারধরের শিকার হন। 

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত দুজনেই শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার দুপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযুক্ত এই দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সমাবেশ
আজ রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বরে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। 

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা "আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই", "সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না", "শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসাথে চলে না" সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩টি দাবি পেশ করেছেন:
১. হামলায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।
২. শাহপরাণ আবাসিক হলের প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. আহত শিক্ষার্থীসহ শাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও নিরপেক্ষতার দাবি
সমাবেশে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হোসেন বলেন, হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থীদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন অভিযোগ করেন, উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, তদন্ত কমিটির ওই ভাষা ঘটনাটিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করেনি এবং এতে নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা অবিলম্বে তদন্ত কমিটির ভাষা সংশোধন করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।