সেনা হেফাজতে মোজাফফরঃ শহীদ জিয়া হত্যার বিষয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্কঃ
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন:
সেনা হেফাজতে মোজাফফরঃ শহীদ জিয়া হত্যার বিষয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত বুধবার রাতে রাজধানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তাকে একটি বিশেষ ইউনিটের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেন ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত বর্ণনা করছেন। ঘটনার দিন জিয়াউর রহমানকে প্রথম কে গুলি করেছিলেন, মরদেহ কীভাবে এবং কারা ট্রাকে করে সরিয়ে নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ঘাতকেরা কার সহায়তায় কীভাবে পালিয়েছিল—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টাও করছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

৪৫ বছরের দীর্ঘ পলাতক জীবন
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর থেকেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মেজর মোজাফফর আত্মগোপনে চলে যান। তৎকালীন মেজর মঞ্জুরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। সেনা আইনে তাকে পলাতক (Absconding) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল এবং তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তৎকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

সূত্র মতে, হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর প্রথমে গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় দালালদের সহায়তায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যান। দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটানোর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে দেশে ফিরলেও তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে ঘরের চার দেয়ালের মাঝেই নিজেকে বন্দি রেখেছিলেন এবং কোনো ধরনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়াননি।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া
এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এক অজানা অধ্যায় ও রহস্যের জট খুলবে বলে ধারণা করছেন অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "সেনাবাহিনী থেকে তাকে আগেই পলাতক ঘোষণা করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের (Joint Interrogation) মাধ্যমে ওই হত্যাকাণ্ডে তার অবস্থান এবং অন্য জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব।"

সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম মনে করেন, ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে মোজাফফর হোসেনের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, "যেহেতু মোজাফফর এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন, তাই ঘটনার পেছনের নির্দেশনা ও কুশীলবদের সম্পর্কে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটিত হওয়ার আগেই যেন তড়িঘড়ি করে তার শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।"

সরকার ও রাজনৈতিক অবস্থান
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার করছে না। সেনাবাহিনীর প্রচলিত আইনেই তার বিচার সম্পন্ন হবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারী বা 'মাস্টারমাইন্ড' কারা ছিল, তা অবিলম্বে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।