বেইজিংয়ের ১০৯ তলা বিশিষ্ট ‘সিটিক টাওয়ারে’ বিমান বিধ্বস্ত

অনলাইন ডেস্কঃ
২৬ জুন, ২০২৬ ৮:২৪ পিএম
শেয়ার করুন:
বেইজিংয়ের ১০৯ তলা বিশিষ্ট ‘সিটিক টাওয়ারে’ বিমান বিধ্বস্ত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু আকাশচুম্বী ভবন সিআইটিআইসি (CITIC) টাওয়ারে একটি ছোট আকারের স্পোর্টস বিমান আছড়ে পড়েছে[1][3]। ‘চায়না জুন’ নামে পরিচিত ১০৯ তলা বিশিষ্ট এই ভবনে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে[2][3]। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো ভবনটি থেকে জরুরি ভিত্তিতে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে[3][4]।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, বেইজিংয়ের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ৫২৮ মিটার উচ্চতার এই সুউচ্চ ভবনে বিমানটি আঘাত হানার পর চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে[3][5]। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনের ওপরের তলা থেকে কাচ ও ধ্বংসাবশেষ নিচে আছড়ে পড়ছে[3][6]। নিচে মাটিতে বিমানের লেজের অংশ এবং কাছাকাছি থাকা একটি ট্যাক্সিক্যাবের জানালা ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে[2][6]। বিমানটির আঘাতে সুউচ্চ এই ভবনের কাচের প্যানেল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে[3][7]।

অনলাইনে প্রকাশিত বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও নিবন্ধন নম্বর বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, বিধ্বস্ত বিমানটি চীনে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা’ (Sunward SA60L Aurora) মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান[3][6]। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, স্থানীয় ‘শিফোসি বিমানবন্দর’ থেকে উড্ডয়নের প্রায় ৩০ মিনিট পর এটি বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে অবতরণের সময় নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়[8]। বিমানটি বেইজিংয়ের পূর্ব ফিফথ রিং রোডের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ সংকেত হারিয়ে ফেলে এবং রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে[8]।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, উড্ডয়নের সময় বিমানটিতে কেবল চালক (পাইলট) একাই ছিলেন[8]। তবে এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি[3][7]। বেইজিংয়ের পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি[1][5]।

ঘটনাস্থলের কাছে কর্মরত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তিনি বাজি ফোটার চেয়েও বিকট একটি শব্দ শোনেন[1][3]। তাকিয়ে দেখেন ভবনের একটি অংশে বিমানের ধ্বংসাবশেষ আটকে আছে[1]। ভবনটির ভেতর থাকা এক নারী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই তীব্র আতঙ্কের মধ্যে তাদের সবাইকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়[3]। পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ছিল যে তিনি নিজের ব্যাগ বা পরিচয়পত্র নেওয়ারও সুযোগ পাননি[3]।

ঘটনার পরপরই বেইজিং পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়[3][5]। সিআইটিআইসি টাওয়ারের চারপাশের সড়কগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়ে পুরো এলাকাটি অবরুদ্ধ (কর্ডন) করে ফেলা হয়েছে[1][3]। সেখানে বড় সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে[5][6]। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সংবেদনশীলতার কারণে ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষকে ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ[1][3]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।