এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বিভাগের সাতটি জেলায় পুলিশের তালিকার চেয়ে বাস্তবে সক্রিয় অস্ত্রধারী বা ‘শুটার’-এর সংখ্যা বহুগুণ বেশি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতকৃত তালিকায় যে পরিমাণ সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে, অনুসন্ধানে দেখা গেছে তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন এর চেয়েও বড় একটি অংশ। ফলে অস্ত্রধারীদের দমনে চলমান পুলিশি অভিযানের কার্যকারিতা ও তালিকার সঠিকতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
চট্টগ্রাম নগরে তালিকায় মাত্র ৯, বাইরে ৮৫ জন
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) করা সারা দেশের ২৪৩ জন অস্ত্রধারীর তালিকায় চট্টগ্রাম বিভাগের সাতটি জেলা থেকে ১০৯ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের তালিকাভুক্ত শুটার মাত্র ৯ জন। এরা হলেন— মোবারক হোসেন ওরফে ইমন, মো. রায়হান, মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, বাদশা ওরফে ছোট বাদশা, মো. আলাউদ্দিন, মো. হেলাল ওরফে মাছ হেলাল, মো. নজরুল ইসলাম সোহেল, শহীদুল ইসলাম ও নুরে আলম সোহাগ।
তবে পুলিশ ও স্থানীয় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ৯ জনের বাইরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮৫ জন চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সক্রিয় রয়েছে।
২৩টি মামলার আসামি ও কিশোর গ্যাং নেতা শহীদুল ইসলাম গত বছরের ডিসেম্বরে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এখনো সক্রিয়।
৮টি মামলার আসামি মোবারক হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এক সাংবাদিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
১৩টি মামলার আসামি মো. রায়হান প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অস্ত্রধারীরাও তালিকার বাইরে
গত জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণকারী ৪৬ জনকে পুলিশ শনাক্ত করেছিল। তাঁদের গুলিতে ১৫ জন নিহত হন। এদের মধ্যে ২০ জনকে র্যাব ও পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও, বাকি ২৬ জনসহ এই ৪৬ জনের কারোর নামই এসবি-র ‘শুটার’ তালিকায় ওঠেনি।
ফেনীসহ অন্যান্য জেলার চিত্র
চট্টগ্রাম বিভাগের সাতটি জেলায় তালিকায় ১০০ জনের নাম থাকলেও অনুসন্ধানে তালিকার বাইরে আরও অন্তত ৫৪ জন অস্ত্রধারীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
ফেনী: সবচেয়ে বেশি অসংগতি দেখা গেছে ফেনীতে। সেখানে মাত্র ৫ জন অস্ত্রধারীর নাম তালিকায় রয়েছে। অথচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ৪ ও ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ৩৩ জন অস্ত্রধারী তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন।
অন্যান্য জেলা: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক মেয়র কাদের মির্জার অনুসারী ৫ জন অস্ত্রধারী বাদ পড়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮ জনের নাম থাকলেও আলোচিত অস্ত্রধারী শাকিল সিকদার ওরফে লায়নের নাম নেই। এছাড়া কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরেও তালিকার বাইরে বহু অস্ত্রধারী সক্রিয় রয়েছে।
রাজনৈতিক আশ্রয় ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং ছত্রছায়ার কারণেই এসব অস্ত্রধারী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
"সমস্যার গোড়াতেই গলদ রয়েছে। তালিকা অসম্পূর্ণ হলে অপরাধবিরোধী অভিযানও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এতে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা পার পেয়ে যায়। যারা এই ত্রুটিপূর্ণ তালিকা তৈরি করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত এবং সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও মামলার নথি বিশ্লেষণ করে নিয়মিত নতুন তালিকা হালনাগাদ করা প্রয়োজন।"
তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তালিকায় নাম থাকা না-থাকা বড় বিষয় নয়; যেকোনো চিহ্নিত অপরাধী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
জুলাই ২৩, ২০২৬
এপ্রিল ৮, ২০২৪
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২৭ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৭ জুলাই, ২০২৬
ক্যাম্পাস | ২৭ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৭ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৭ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।