মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প জিতলেই নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৩ পিএম
শেয়ার করুন:
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প জিতলেই নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান শক্ত করতে বড় ধরনের এক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তবে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে নগদ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনি কনভেনশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এই চমকপ্রদ ঘোষণা দেন।

এই আর্থিক সুবিধাকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বা ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “যদি রিপাবলিকানরা জেতে, তবে আপনারা আমাদের সঙ্গেই জিতবেন এবং প্রত্যেক আমেরিকান ৫ হাজার ডলার করে পাবেন।” দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য তুলে ধরে তিনি এই লভ্যাংশকে মূলত করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্ত লভ্যাংশের সঙ্গে তুলনা করেন।

অর্থনৈতিক সংশয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
ট্রাম্পের এমন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও আর্থিক ভিত্তি নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিককে এই অর্থ দিতে মার্কিন সরকারের খরচ হবে ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারেরও বেশি। এ ধরনের বড় বরাদ্দ কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই ‘ডিভিডেন্ড’ ধনী ব্যক্তিদের দেওয়া হবে না এবং আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) থেকে অর্জিত রাজস্ব দিয়ে এর অর্থায়ন করা হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক থেকে অর্জিত আয় এই বিপুল ব্যয়ের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইনি দিক ও নির্বাচনি কৌশল
নিউ মেক্সিকো ভিত্তিক আইনজীবী জন ডে জানান, এই প্রস্তাবটি আইনিভাবে বৈধ। কারণ, কোনো নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেওয়ার সরাসরি শর্তারোপ না করে দেশের সব নাগরিকের জন্যই এই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে—যা মূলত একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাম্প্রতিক কোটি ডলারের চেক বিতরণ কৌশলের সঙ্গে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের মিল পাচ্ছেন অনেকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। ট্রাম্প এই চিরাচরিত রাজনৈতিক ধারা ভাঙতেই এমন চমকপ্রদ কৌশল বেছে নিয়েছেন। বিশেষ করে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক চাপের মুখে হাউসে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে নির্বাচনে জয়ের শেষ হাতিয়ার হিসেবেই ট্রাম্প এই ট্রিলিয়ন ডলারের চাল চেলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।