নোয়াখালীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৩ এএম
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামের এক শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। 

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা জানাজানি হয়। অভিযুক্ত মোবারক হোসেন অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাওলানা মোবারক হোসেন নিজের বাড়িতে ওই ছাত্রীকে নিয়মিত প্রাইভেট পড়াতেন। গত কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় চরম অমনোযোগী হয়ে পড়লে অভিভাবকরা তাকে কারণ জানতে চেয়ে বকাঝকা করেন। একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে সোমবার সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের উপস্থিতিতে শিশুটি জানায়, প্রাইভেট পড়ার সুযোগে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে শিক্ষক মোবারক হোসেন তাকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, “অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাড়িতে ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে পরিবার। অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।