আলফাডাঙ্গায় ‘শয়তানের নিশ্বাসে’ গৃহবধূর স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের অভিযোগ

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় ‘শয়তানের নিশ্বাসে’ গৃহবধূর স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্বর্ণের বারের প্রলোভন ও কথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ (চেতনানাশক) প্রয়োগ করে এক গৃহবধূর সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার হয়ে ওই নারী প্রায় ১ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হারিয়েছেন। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও গোপালপুর সড়কের দীপক স্বর্ণকারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারীর নাম মরিয়ম খানম (২৬)। তিনি পৌরসভার বাঁকাইল গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে এবং পানাইল গ্রামের আমিনুর রহমানের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরিয়মের ছেলে গোলাম রাব্বি আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে স্কুল ছুটির পর ছেলেকে নিয়ে পানাইল গ্রামের বাড়ি ফেরার উদ্দেশে বিদ্যালয়ের সামনে থেকে গোপালপুরগামী একটি ইজিবাইকে ওঠেন তিনি। ইজিবাইকটি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীবেশে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাতে ওঠে।

পরবর্তীতে ইজিবাইকটি গোপালপুর সড়কের দীপক স্বর্ণকারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি রাস্তার ওপর একটি ছোট ব্যাগ পড়ে থাকার কথা বলে নাটক সাজায়। ব্যাগটি কুড়িয়ে নিয়ে সে মরিয়মকে দেখায় এবং জানায়, ভেতরে বোনের বিয়ের জন্য রাখা ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের বার ও স্বর্ণকারের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি রয়েছে। চিঠিতে ওই স্বর্ণের বারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে বলেও জানানো হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, এই প্রলোভন দেখানোর একপর্যায়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা কথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা কোনো চেতনানাশক গন্ধযুক্ত পদার্থ ব্যবহার করে। এতে তিনি স্বাভাবিক বোধশক্তি হারিয়ে পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যান। তখন নিজের অজান্তেই তিনি গলায় থাকা ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, ৩ আনা ওজনের কানের দুল ও লকেটসহ প্রায় ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা নগদ ২০০ টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।

পরে বাঁকাইল কামারবাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে প্রতারকরা মরিয়মকে অন্য একটি ইজিবাইকে তুলে দিয়ে কৌশলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। কিছু সময় পর স্বাভাবিক জ্ঞান ফিরে এলে মরিয়ম বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মরিয়ম খানম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, “ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।