আজ শুভ জন্মাষ্টমী: ভক্তি ও শ্রদ্ধায় উদযাপিত হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরাঃ
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৭ এএম
শেয়ার করুন:
আজ শুভ জন্মাষ্টমী: ভক্তি ও শ্রদ্ধায় উদযাপিত হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী আজ। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মর্ত্যে আবির্ভাব স্মরণে দেশজুড়ে গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।

পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার ও অধর্মের বিস্তার ঘটেছিল, তখন সমাজ থেকে অসত্য ও অবিচার দূর করে ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দি দেবকী ও বসুদেবের অষ্টম সন্তান হিসেবে অন্ধকার নিশীথ রাতে জন্ম নেন তিনি। 

শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পরপরই কারাগারের রুদ্ধদ্বার অলৌকিকভাবে খুলে যায়। দুর্যোগপূর্ণ সেই রাতে পিতা বসুদেব নবজাতক কৃষ্ণকে নিয়ে উত্তাল যমুনা পার হয়ে গোকুলে নন্দরাজ ও মা যশোদার আশ্রয়ে রেখে আসেন। পরবর্তী সময়ে সেখানেই শুরু হয় গোপাল কৃষ্ণের অনুপম শৈশবলীলা—যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ননী-মাখন, রাখাল বালকদের নিয়ে গোচারণ, মোহন বাঁশির সুর আর বৃন্দাবনের অপার্থিব প্রেমকথা।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সকাল থেকেই দেশের প্রতিটি মন্দির ও উপাসনালয়ে চলছে পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ ও নামসংকীর্তন। এর পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও শাশ্বত দর্শন নিয়ে চলছে ধর্মীয় আলোচনা সভা। উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরগুলো ফুল ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শিশুদের রাধা-কৃষ্ণের সাজে সাজিয়ে ভক্তরা মাতছেন নির্মল আনন্দে। বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা প্রদর্শন, ধর্মীয় নাটক ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এই মাহেন্দ্রক্ষণে পুণ্যলাভের আশায় ভক্তরা দিনভর উপবাস ও ব্রত পালন করছেন। বালগোপালের প্রিয় দুধ, দই, ননী-মাখন ও ফলমূল দিয়ে নিবেদন করা হচ্ছে বিশেষ ভোগ। গভীর রাতে কৃষ্ণের জন্মক্ষণ স্মরণে অনুষ্ঠিত হবে মহাভিষেক, বিশেষ পূজা ও আরতি। শঙ্খ, ঘণ্টা ও হরিনাম সংকীর্তনের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে চারপাশ। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মণ্ডপগুলোতে দিনভর নানা ধর্মীয় কর্মসূচির পাশাপাশি রাতেও চলবে ভজন ও ভক্তিগীতি।

শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির সুরে প্রেমের বার্তা, গীতার বাণীতে নিঃস্বার্থ কর্মের প্রেরণা আর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষাই জন্মাষ্টমীর মূল সুর। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে জন্মাষ্টমী আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার এক পরম প্রত্যয়ের দিন। অন্ধকারের বুক চিরে আলোর দিশারি হয়ে শ্রীকৃষ্ণ যেভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তেমনি মানুষের অন্তরেও জেগে উঠুক প্রেম, সম্প্রীতি, মানবতা ও শান্তির শাশ্বত আলো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।