রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী পাচ্ছেন হাছান-নওফেলসহ ১৭ আসামি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। এই মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ পলাতক ১৭ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী বা ‘স্টেট ডিফেন্স’ নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৪ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের কার্যক্রম ও আদেশ
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি আদালতে পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন জানান এবং শুনানির জন্য সময়ের প্রার্থনা করেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের আদেশ দেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
আসামিদের বর্তমান অবস্থা
এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ২২ জন। এর মধ্যে ৫ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন, যাদের চারজনকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাজির করা আসামিরা হলেন— চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ।
অন্যদিকে, ড. হাছান মাহমুদ ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছাড়াও পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ আরও অনেকে। এর আগে গত ৩ মে পলাতক ১৭ আসামিকে আদালতে হাজির হতে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
গত ৫ এপ্রিল এই মামলায় প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং ৭ এপ্রিল আদালত তা আমলে নেন। আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে:
১. প্রথম অভিযোগ: ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায়।
২. দ্বিতীয় অভিযোগ: তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায়।
৩. তৃতীয় অভিযোগ: জাহিদ হাসান, আবদুল কাদেরসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত ও পঙ্গু করার অভিযোগ।
জুলাই বিপ্লবের সময় চট্টগ্রামের রাজপথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় আজকের এই আদেশটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ৪ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ