নোয়াখালীতে মাকে গলা কেটে হত্যা: ছেলে ও সৎ শাশুড়ি গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৭ এএম
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীতে মাকে গলা কেটে হত্যা: ছেলে ও সৎ শাশুড়ি গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামের এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তাঁর ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির গ্রাম পুলিশ সদস্য ও চা দোকানদার আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্র ও ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলি বেগম ও তাঁর ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক দুটি কক্ষে থাকতেন। লাইলির স্বামী আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাড়ি থেকে সামান্য দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমাতেন। 

প্রায় ৮-১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পা পিছলে পড়ে লাইলি বেগমের বাঁ হাত ভেঙে যায়। ফলে তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছিলেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের রান্নাবান্না ও খাবারের ব্যবস্থা চলছিল পাশের ঘরে থাকা লাইলির সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে। 

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি বেগম শাশুড়ির ঘরে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত ১২টার দিকে স্বামী আলমগীর হোসেনও সেখানে খাবার খেয়ে দোকানে চলে যান। এরপর লাইলি ও তাঁর ছেলে সৌরভ নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তাঁর মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে দাবি করেন। পরে তিনি বিষয়টি তাঁর দাদি তফুরা বেগমকে জানান। তফুরা বেগম ঘরে এসে নিথর দেহ দেখে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এরপর সৌরভ দোকানে গিয়ে বাবাকে ঘটনাটি জানান। আলমগীর হোসেন বাড়ি এসে স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। 

সুরতহালে দেখা গেছে, লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া তাঁর বাঁ কাঁধের সামনের অংশ ও বাঁ হাঁটুতে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পুলিশের তদন্ত ও বক্তব্য:
খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এছাড়া পিবিআই, সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক জানান, এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তাঁর দাদি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছেলে সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে শাশুড়ি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি; বিষয়টি নিয়ে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।