এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তরুণ জসিম। তবে তার বীরোচিত আত্মত্যাগের পর আজ চরম অনিশ্চয়তা ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার পরিবার। সন্তান হারানোর অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি ঋণের বোঝা, অসুস্থতা আর আশ্রয়হীনতার দুঃসহ ভার বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নয়ারনগর গ্রামের তরুণ জসিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। চরম দারিদ্র্যের কারণে দশম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার। সংসারের হাল ধরতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকায়, চাকরি নেন একটি পোশাক কারখানায়। প্রতি মাসে অর্জিত উপার্জনের প্রায় পুরোটাই পাঠিয়ে দিতেন বাড়িতে; সেই টাকায় কোনো রকমে দুবেলা খাবার জুটত বৃদ্ধ বাবা-মায়ের।
জসিমের ইচ্ছা ছিল বিদেশে গিয়ে উপার্জন করে একটি ছোট্ট ঘর তুলবেন, ছোট ভাইকে লেখাপড়া করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং বোনের বিয়ে দেবেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্নগুলো চিরতরে অধরা থেকে যায়।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার নর্দা ওভারব্রিজের পাশে গুলিবিদ্ধ হন জসিম। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৪ আগস্ট বেলা ১১টা ২০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
জসিমের মৃত্যুর পর যেন মুহূর্তেই সবকিছু থমকে যায় পুরো পরিবারের। সংসার চালাতে এবং চিকিৎসাকাজে ইতোমধ্যে পরিবারটিকে প্রায় এক লাখ টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিতে হয়েছে। আজও তাদের নিজস্ব কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।
সম্প্রতি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি জসিমের মা আছিয়া বেগম। পাশে ছিলেন অসুস্থ বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা আছিয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলে বলত— আম্মা, আমি বিদেশে যামু গা, তোমাদের সুন্দর একটা ঘর বানায়া দিমু। কিন্তু আজ আমার ছেলে নেই, থাকার ঘরও নেই।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দের কাছে কান্নাভেজা চোখে পরিবারের বেঁচে থাকার আকুতি জানান এই শহীদের মা। পরিবারের সদস্যরা জানান, দেশের জন্য জসিমের বীরত্বকে জাতি স্মরণ করলেও তার পরিবার পর্যন্ত এখনও পর্যাপ্ত সরকারি বা সামাজিক সহায়তা পৌঁছায়নি।
যে তরুণ নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে নিজের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, আজ তারই পরিবার মাথার ওপর একটু ছাদের জন্য মানবেতর জীবনযাপন করছে। শহীদ জসিমের পরিবারের এই করুণ বাস্তবতা আজ পুরো জাতির বিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
নওগাঁ | ২০ জুলাই, ২০২৫
ফরিদপুর | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয় | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সারাদেশ | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ৩ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।