পবিপ্রবিতে উপাচার্যবিরোধী অপতৎপরতা রুখে দিল সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্যবিরোধী একটি পক্ষের ডাকা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করলেও সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টায় আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির করার চেষ্টা করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে উপাচার্যবিরোধী একটি গোষ্ঠী প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে অবস্থান নেয় এবং প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাস ও পরীক্ষা সচল রাখার দাবিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিরোধের মুখে একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষক ও তাদের অনুসারীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের নেওয়া কঠোর ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অতীতে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, অবৈধ আর্থিক সুবিধা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এই চক্রটি বর্তমানে তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মব (Mob) তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উপাচার্যের সরকারি সফরে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অধ্যাপক আবুল বাশার, অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মালেক, ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আরিফুর রহমান নোমান, ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার ও রাহাত মাহমুদের নাম উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যখন উন্নয়ন ও গণমুখী প্রশাসনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে সময় দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যারা অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ লুটপাট, টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণ, খামারের ভুয়া বিল উত্তোলন এবং ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের অর্থ নিয়ে অনিয়মে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূলত এই অপকর্ম আড়াল করতেই তারা আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করছে। কিন্তু কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা মব সৃষ্টির অপচেষ্টার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতি স্বীকার করবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গুটিকতক মানুষের ব্যক্তিস্বার্থের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেশনজট ও পরীক্ষা পেছানোর হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা ক্যাম্পাসে স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ