পাকিস্তানে পুলিশ চেকপোস্টে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা: প্রাণ হারালেন ১২ পুলিশ সদস্য
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে নজিরবিহীন আত্মঘাতী হামলা ও ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। রোববার (১০ মে) দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) রাতে বান্নু জেলার ফতেহ খেল এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। বান্নু পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাজ্জাদ খান জানান, প্রথমে এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে দ্রুতগতিতে পুলিশ চেকপোস্টে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় এলাকাটি কেঁপে ওঠে। এরপরই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে চেকপোস্টে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার:
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসীরা কেবল ভারী অস্ত্রই নয়, বরং নজরদারি ও আক্রমণের জন্য ক্ষুদ্র ড্রোন বা 'কোয়াডকপ্টার' ব্যবহার করেছে। হামলা শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা চেকপোস্টে থাকা পুলিশের বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায়।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও প্রাণহানি:
এই হামলায় ১২ জন পুলিশের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এক পুলিশ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন:
এই হামলার ফলে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যকার বিদ্যমান তিক্ত সম্পর্ক আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, বিদ্রোহীরা আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ