কূটনৈতিক সমাধানের পথ রুদ্ধ করে সামরিক আস্ফালন দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

অনলাইন ডেস্কঃ
May 9, 2026 - 11:54
কূটনৈতিক সমাধানের পথ রুদ্ধ করে সামরিক আস্ফালন দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

হরমুজ প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহস’ দেখানোর অভিযোগ তুলেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দেখে, তখনই সামরিক পথ বেছে নিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, “যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র পেশিশক্তির ব্যবহার শুরু করে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চায়—কোনো ধরনের চাপের কাছে আমরা মাথা নত করব না।”

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যখন ওমান উপসাগরে ইরানি নৌযান লক্ষ্য করে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের আরোপিত নৌ-অবরোধ অমান্য করে ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করায় দুটি খালি তেলের ট্যাংকারকে তারা ‘নিষ্ক্রিয়’ করে দিয়েছে। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইরানের ৭০টিরও বেশি ট্যাংকারকে বন্দরে আসা-যাওয়ায় বাধা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে পাল্টা অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। তেহরানের দাবি, বার্বাডোজে নিবন্ধিত ওই জাহাজটি ইরানের তেল রপ্তানি ও জাতীয় স্বার্থে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে জাহাজটিতে ইরানি বাহিনীর বিশেষ অভিযানের দৃশ্যও দেখা গেছে।

এর আগের দিনও হরমুজ প্রণালিতে দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আনে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরান তাদের জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান পাঠিয়েছিল। বিপরীতে ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় তাদের একটি তেলের ট্যাংকার ও একটি কার্গো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের হরমুজগান প্রদেশের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মার্কিন হামলায় একটি কার্গো জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ১০ জন নাবিক আহত হন।

এদিকে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে ভবিষ্যতে তাদের আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।

কূটনৈতিক ও সামরিক শক্তির এই দ্বৈরথে বর্তমানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow