শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা বন্ধ ও হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন
স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা বন্ধ এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (০৯ মে) সকাল ১১টায় ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে নারী উন্নয়নভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘নন্দিতা সুরক্ষা’র উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। নেত্রকোনায় ১১ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালে মহামান্য হাইকোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং ‘অভিযোগ কমিটি’ গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো:
১. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ৫ সদস্যের ‘অভিযোগ কমিটি’ গঠন করা।
২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ‘সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা।
৩. আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।৪. দেশব্যাপী সংঘটিত সকল যৌন সহিংসতার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস, জান্নাতুল ফেরদৌস, সোনিয়া সুলতানাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংহতি প্রকাশ করে এই কর্মসূচিতে ফরিদপুরের প্রায় ২২টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। সেখানে যদি তারা লালসার শিকার হয়, তবে তা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। অবিলম্বে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ