ঢাকার পশুর হাটে ইজারা যুদ্ধের নতুন সমীকরণ: মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার বসতে যাচ্ছে ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট। তবে এবারের হাটের ইজারা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক নতুন উত্তাপ। দীর্ঘ দুই দশক পর সিন্ডিকেটের বৃত্ত ভেঙে পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় ফিরেছে তীব্র প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
**প্রতিযোগিতার চিত্র ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন**
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নগর ভবনে দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি এনসিপির নেতারাও ইজারা পেতে বেশ সক্রিয় রয়েছেন।
গত কয়েক বছর নামমাত্র মূল্যে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট হাট নিলেও এবার দৃশ্যপট ভিন্ন। বিশেষ করে ডিএসসিসির ১১টি হাটে জামায়াত নেতারা সরাসরি অংশ নেওয়ায় ইজারা মূল্য সরকারি দরের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজ সংলগ্ন হাটের সরকারি মূল্য ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা হলেও সেখানে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর উঠেছে। একইভাবে আমুলিয়া মডেল টাউনের ৫৩ লাখ টাকার হাটের দর উঠেছে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
**কৌশলে সরকারি মূল্য কমানোর অভিযোগ**
প্রতিবেদনে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে হাটের নাম ও সীমানা পরিবর্তন করে সরকারি ইজারা মূল্য কমিয়ে ধরা হয়েছে। খাতা-কলমে আয়তন কমিয়ে দেখানো হলেও বাস্তবে হাটগুলো বিশাল এলাকা জুড়েই বসছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে অনেক জায়গায় সরকারি মূল্য কমলেও শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কেই ইজারা চূড়ান্ত হচ্ছে।
**আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছায়া ও শঙ্কা**
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও। সম্প্রতি নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পেছনে পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। শীর্ষ সন্ত্রাসী 'পিচ্ছি হেলাল'-এর নামও এ ঘটনায় জড়িয়েছে।
**কর্তৃপক্ষের অবস্থান**
এতসব তোড়জোড় ও উত্তাপের মাঝেও নগর কর্তৃপক্ষ স্বচ্ছতার ব্যাপারে অনড়। ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি’র প্রশাসকরা জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে নয় বরং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেই যোগ্যদের ইজারা দেওয়া হচ্ছে। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই পশুর হাট বসানো যাবে না এবং সীমানার বাইরে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে এবার রাজধানীর পশুর হাটের ইজারা নিয়ে যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তাতে নগরবাসীর প্রত্যাশা—রাজনৈতিক শক্তির লড়াই ছাপিয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সঠিক মূল্যের মধ্য দিয়ে পশু কেনাবেচা নিশ্চিত হবে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ