আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তেহরানের পাশে দাঁড়াল বেইজিং

অনলাইন ডেস্কঃ
May 7, 2026 - 12:56
আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তেহরানের পাশে দাঁড়াল বেইজিং

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা হয়তো সাময়িকভাবে থেমেছে, কিন্তু ভূ-রাজনীতির ময়দানে চলছে এক সূক্ষ্ম ও জটিল দাবার চাল। আর এই খেলায় সবচেয়ে চমকপ্রদ চালটি দিল ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগেই চীনের রাজধানীতে হাজির হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আন্তর্জাতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন—এটি কি কেবলই একটি সাধারণ সফর, নাকি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কোনো নতুন শক্তিশালী অক্ষ বা জোটের ইঙ্গিত?

সময়টা তেহরানের জন্য বেশ সংকটময়। মার্কিন অবরোধ, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনার মাঝে পুরো মধ্যপ্রাচ্য যখন এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বেইজিং ইরানকে প্রকাশ্যে সমর্থনের বার্তা দিল। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ইরানকে তাদের 'বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার' হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো বিভিন্ন অভিযানকে সরাসরি 'অবৈধ' বলে মন্তব্য করে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

ওয়াশিংটন দীর্ঘকাল ধরে ইরানকে একঘরে করার চেষ্টা চালালেও, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের এই অবস্থান তেহরানের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেইজিং বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান তার 'বৈধ অধিকার' রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না। তারা কেবল একটি 'ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি' মানতে রাজি, যা থেকে স্পষ্ট যে আমেরিকার কোনো চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করছে না। বিনিময়ে ইরানও চীনের ‘ওয়ান চায়না পলিসি’র প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছে।

আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে মুখোমুখি বসতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং। সেই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের ঠিক আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বেইজিং সফরকে নিছক কাকতালীয় মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ট্রাম্প পৌঁছানোর আগেই ইরান নিজের কূটনৈতিক অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে। একই সময়ে তেহরান সৌদি আরবের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে, যা প্রমাণ করে যে ইরান কেবল সামরিক ময়দানে নয়, কূটনৈতিক ফ্রন্টেও সমানভাবে সক্রিয়।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, চীন কি শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘পাওয়ার ব্রোকার’ বা প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি হয়ে উঠছে? আমেরিকার প্রভাব কমিয়ে বেইজিং কি পারবে এই অঞ্চলে নিজের আধিপত্য নিশ্চিত করতে? ট্রাম্পের বেইজিং সফরেই হয়তো মিলবে এসব প্রশ্নের উত্তর এবং নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের আগামীর রাজনৈতিক সমীকরণ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow