সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর: দ্রুতই মিলবে বিনা মূল্যে ব্যাগ, জুতা ও পোশাক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। খুব শীঘ্রই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে বিনা মূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, স্কুল ড্রেস এবং উন্নত মানের জুতা (ফুটওয়্যার)। সরকারের এই উদ্যোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় চামড়া ও জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
**প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ১৮০ দিনের কর্মসূচি**
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এই মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো—শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও পোশাক প্রদানের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা জীবনকে আরও সহজ ও আনন্দময় করে তোলা। সরকারের ১৮০ দিনের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেহেতু জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এই পণ্যগুলো তৈরি করে, তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নত মানের স্কুল জুতা বিতরণ করা হবে। এই পাইলট প্রকল্পে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত হবে। দেশের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বলে সরকারকে আশ্বস্ত করেছে।
উদ্যোগটি যাতে শিশুদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ হয়, সেজন্য গুণগত মানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, "আমরা চাই এই উদ্যোগটি শিশুদের জন্য একটি সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।" জুতার মান, স্টাইল এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে মন্ত্রণালয়, লেদার ইনস্টিটিউট, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। পণ্যের নকশা ও গুণগত মান যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের উপস্থিতিতে এই সভায় বাটা, অ্যাপেক্স, প্রাণ-আরএফএল এবং বসুন্ধরা গ্রুপসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৈষম্য দূর হবে এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ