সংবিধান সংস্কার পরিষদ: সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক, মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী দল

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 15, 2026 - 17:37
সংবিধান সংস্কার পরিষদ: সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক, মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী দল

জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। আজ রোববার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ তাদের ভিন্নধর্মী আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন।

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আজ সেই সময়সীমা শেষ হলেও কোনো অধিবেশন ডাকা হয়নি।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য জুলাই আদেশের আলোকে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছি। আমরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংস্কার পরিষদের সদস্য—এই দুই সত্তাতেই দায়িত্ব পালন করতে চাই। এটি আইনত সিদ্ধ।’

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এই আদেশকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘জবরদস্তিমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সংবিধানের ৯৩ (১) (ক) ধারা অনুযায়ী, সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধনের কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আনা যায় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, ‘এই আদেশটি না অধ্যাদেশ, না সাধারণ আদেশ। এটি এক ধরণের “নিউটার জেন্ডার” বা ক্লীবলিঙ্গ। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে কোথাও “সংস্কার পরিষদ” বলে কিছু নেই। ফলে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই সংস্কার আদেশ ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। আদালত রুল জারি করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না, চলে আইন ও সংবিধান দিয়ে। গণভোটের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। এরপরই কেবল পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ বা কার্যক্রমের প্রশ্ন আসে।’

গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন জুড়ে দেওয়ার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি আরোপিত আদেশ, যা পড়তে আমার নিজেরই লেগেছে সাড়ে তিন ঘণ্টা। এই পরিস্থিতি রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনগত জটিলতা তৈরি করছে।’

তীব্র বাদানুবাদের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদের প্রতি সমঝোতার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসুন আমরা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বসি। সমঝোতার ভিত্তিতে এমন বিল আনা হোক, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। আমরা সংবিধান মেনেই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে চাই।’

সংসদে এ দিনের বিতর্ক সংবিধান সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও কৌতুহল তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বিরোধী দলের এই আইনি অবস্থানের দ্বন্দ্ব আগামী দিনে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow