অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের শরণাপন্ন মমতা

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ জুন, ২০২৬ ১১:৪৪ এএম
শেয়ার করুন:
অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের শরণাপন্ন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। লোকসভা, রাজ্যসভা থেকে শুরু করে খোদ বিধানসভাতেও তৃণমূল এখন বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এই চরম সংকটকালে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অবশেষে পুরোনো দল কংগ্রেসের শরণাপন্ন হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস
দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তৃণমূলের লোকসভার ২০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) সরাসরি শাসক জোট এনডিএ-কে (ন্যাশনাল ডেমোক্রটিক অ্যালায়েন্স) সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। 

এদিকে রাজ্যসভাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে ঘাসফুল শিবির। বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার সংসদ সদস্য পদ ও দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন সুস্মিতা দেব। পদত্যাগের দিনই তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে দেখা করায় তাঁর বিজেপিতে যোগদানের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। 

সংসদের পাশাপাশি ধাক্কা এসেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও। সেখানে ৬৪ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন ঋতব্রত। ফলে আইনসভা ও সংসদ—উভয় জায়গাতেই চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তৃণমূলের পরিষদীয় দল।

দিল্লিতে সোনিয়া-রাহুলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক
দলের এই চরম দুর্দিনে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় দিল্লির দিকে নজর দিয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। গত সোমবার দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকের ফাঁকে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মঙ্গলবার তিনি ১০ জনপথে গিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। 

পরদিন বুধবার সকালে সোনিয়ার বাসভবনে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে মতপার্থক্য ভুলে কীভাবে একজোট হয়ে বিজেপির মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন নিয়েও দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দলের সহ-সভাপতির পদ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন সোনিয়া গান্ধী। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব। গতকাল বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা ফিরে এলেও অভিষেক এখনো দিল্লিতেই অবস্থান করছেন। 

২৮ বছর আগে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় পর আজ নিজের তৈরি দলের অস্তিত্ব রক্ষায় তাঁকে আবারও সেই কংগ্রেসেরই হাত ধরতে হচ্ছে। লড়াকু নেত্রী হিসেবে পরিচিত মমতার লক্ষ্য এখন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।