এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
চোখে ঝাপসা দৃষ্টি, শয্যাশায়ী রোগাক্রান্ত শরীর আর বুকের ভেতর পৈতৃক ভিটে হারানোর তীব্র যন্ত্রণা—এই নিয়েই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধ সদর আলী ফকির। পৈতৃক সম্পত্তি জালিয়াতিচক্রের কবল থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আজ তিনি সর্বস্বান্ত। দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াই এখন এক মর্মান্তিক মানবিক ট্র্যাজেডিতে রূপ নিয়েছে।
জালিয়াতির নেপথ্য ঘটনা:
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রঘুনাথপুর মৌজার তফসিল বর্ণিত ভূমি দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষের পিতা-পিতামহ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। মূল মালিক মাযহোম ফকির ১৯৫৭ সালের ২৭ নভেম্বর রেজিস্ট্রিকৃত দলিলমূলে জমি ক্রয় করে বসবাস ও চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে সদর আলী ফকির ও মনফর ফকির উক্ত সম্পত্তির আইনগত মালিক হন।
তবে অভিযোগের তীর বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে। মৃত আবুল হোসেন ফকির অসৎ উদ্দেশ্যে বিআরএস (BRS) জরিপকালে মাযহোম ফকিরের কোনো পুত্র সন্তান নেই মর্মে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দেন। তিনি 'সাজিয়া' নামের এক ভুয়া সন্তান সাজিয়ে বিআরএস খতিয়ান নং-৫৯ প্রস্তুত করেন। এর মাধ্যমে মূল এসএ (SA) খতিয়ান নং-৩৪ এর পৈতৃক সম্পত্তি কেটে বিবাদীদের নামে পৃথক খতিয়ান খোলার এই গভীর জালিয়াতি করা হয়।
আইনি তথ্য ও মামলার বিবরণ:
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (সংশোধনী-২০০৮)-এর ১৪৫(এ) ধারার বিধান মতে রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট আইনগত লড়াই শুরু হয়।
আদালত: ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত), নেত্রকোনা।
মামলা নম্বর: মোকদ্দমা নং-১৫৫৫/২০১৪ (ল্যান্ড সার্ভে)।
স্থান: রঘুনাথপুর মৌজা, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা।
জমির পরিমাণ: মোট ১.৮৭ একর (এস.এ খতিয়ান নং-৩৪, বি.আর.এস খতিয়ান নং-৫৯)।
প্রধান বিবাদীগণ: মিলন মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, হারুন মিয়া, কাজল মিয়া (সর্বসাং-রঘুনাথপুর, কেন্দুয়া) ও অন্যান্য।
জীবন সায়াহ্নে করুণ আকুতি:
একসময়ে ভাঙারি কুড়িয়ে ও কামারের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালানো সদর আলী ফকির আজ পুরোপুরি মুমূর্ষু। জীবনের এই অন্তিম ক্ষণে এসেও তাঁর একটাই আকুতি—মৃত্যুর আগে যেন তিনি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিটুকু ফিরে পান এবং নিজের ভিটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেন।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাঁর আইনজীবীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ফাইল বা নথিপত্র না দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিচারিক অবস্থার বিবরণ দেওয়া সম্ভব নয়। মামলার এই দীর্ঘসূত্রিতা বৃদ্ধ সদর আলীর শরীর ও মনকে চরমভাবে ভেঙে দিয়েছে। তবুও তিনি খাতার পাতায় এলোমেলো হরফে জমির নানা তথ্য লিখে রাখছেন—যদি কোনো অলৌকিক উপায়ে বা আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি তাঁর জবরদখল হয়ে যাওয়া সম্পদ ফিরে পান!
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের দাবি:
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের জমি জালিয়াতি করে নিরীহ মানুষকে নিঃস্ব করে আসছে। এই মামলাটির দ্রুত সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা না গেলে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। মুমূর্ষু সদর আলী ফকির যেন জীবনপ্রদীপ নেভার আগেই তাঁর শেষ অধিকারটুকু ফিরে পান—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় অধিবাসীদের।
জুলাই ৮, ২০২৬
জুলাই ১৫, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
নেত্রকোনা | ২৩ জুলাই, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ২৩ জুলাই, ২০২৬
পাবনা | ২৩ জুলাই, ২০২৬
পাবনা | ২৩ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৩ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।