মক্কায় কুরআন বিজয়ী চার হাফেজকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সংবর্ধনা

মোঃ রহমতুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
মক্কায় কুরআন বিজয়ী চার হাফেজকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সংবর্ধনা

পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করায় বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন। 

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম ‘বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে চারজন প্রতিযোগীই বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম এবং অপর তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি হাফেজদের এ অনন্য সাফল্য গোটা জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের। পবিত্র কাবা শরিফের চত্বরে যখন বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে, তা কোটি বাঙালির হৃদয়কে গর্বিত করেছে।” 

কুরআন বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “খেলাধুলা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও পুরস্কৃত করা হলেও কুরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ তাঁরাও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছেন।” এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মানিত করতে গতকাল জাতীয় সংসদে জোরালো দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সরকার যেন দ্রুত তাঁদের সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মানের ব্যবস্থা করে, সে আহ্বানও জানান তিনি। একই সাথে অতীতে যাঁরা আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় দেশকে সম্মানিত করেছেন, তাঁদের সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় সংবর্ধনার আয়োজনের তাগিদ দেন।

ধর্মীয় শিক্ষাকে নৈতিক নাগরিক তৈরির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কওমি মাদ্রাসাশিক্ষা ও হিফজুল কুরআনের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা আবশ্যক। এটি তাঁদের প্রতি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং তাঁদের ন্যায্য অধিকার।” বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও সমন্বয়ের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এ ব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। 

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের দিকনির্দেশনা প্রদানকারী বিদেশি শিক্ষককেও সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জামায়াত আমীর।

হাফেজদের এ অর্জনকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় গৌরব হিসেবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা কামনা করেন তিনি। 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা সবাই মিলে প্রিয় বাংলাদেশকে একটি মানবিক, ইনসাফভিত্তিক এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার প্রধান ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।