আলফাডাঙ্গায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:৩৮ পিএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষাজীবনে আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’। অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ১০ জন এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৪ জনসহ মোট ২৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে কৃতি ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেন তরুণ সমাজসেবক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং আসন্ন আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মুন্সী বিল্লাল হুসাইন। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক মিলন কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক এএম মুস্তাফিজুর ইসলাম, সহকারী শিক্ষক শাজাহান কবির, আবুল বাশার শেখ ও মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের অর্জনকেও সম্মান জানানো হয়। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬-এ বিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজাদুল ইসলাম এবং শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় মো. মোজাহিদুল ইসলামকে বিশেষ শুভেচ্ছা ও সম্মাননা উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক মুন্সী বিল্লাল হুসাইন বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা ও সাফল্যকে এগিয়ে নেওয়া আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন কেবল অর্থের অভাব কিংবা উৎসাহের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমি চাই, আলফাডাঙ্গার সন্তানরা লেখাপড়ায় আরও ভালো ফলাফল করে দেশ ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করুক।” 

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, “শুধু ভালো ফলাফল করলেই চলবে না; সত্যিকারের মানুষ হতে হলে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। আজকের এই কৃতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন, মেধার স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগায়। এ ধরনের মহতী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখানোই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।