নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৫৮ পিএম
শেয়ার করুন:
নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

হিমবাহ ধসের জেরে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির ভোটেকোশি নদী অববাহিকায় বয়ে যাওয়া বিধ্বংসী বন্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে নেপালি সংবাদমাধ্যম *কাঠমান্ডু পোস্ট*-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে যে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছিল, বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ২২.১ মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘চিলিমে’ এবং ২৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘ত্রিশূলী’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্যার পর থেকেই উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

মার্কিন ডলারে সম্পাদিত এই বাণিজ্যিক চুক্তিটি সচল রাখতে নেপাল বিকল্প কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠাতে ভারতের কাছে জরুরি অনুমতি চেয়েছে। 

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা বলেন, “বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আমরা বিকল্প হিসেবে অন্য একটি সচল প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতির জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।”

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক দুর্যোগের কারণে মোট রপ্তানির পরিমাণ কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

**অনুমোদন ও সঞ্চালন জটিলতা**  
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ভারতের নীতিগত অনুমোদন এবং সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতাও এই বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেয়াদের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় নেপালের তিনটি প্রকল্পের প্রায় ৭৩.৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নবায়ন এখনো ভারতের অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। এছাড়া, বিদ্যমান চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সমঝোতা থাকলেও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির কথা জানিয়ে তা এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি।

এর বাইরে ভূরাজনৈতিক জটিলতাও রয়েছে। ভারতের নীতি অনুযায়ী, চীনা অর্থায়ন, ঠিকাদার বা সরঞ্জামের সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে দিল্লির কড়াকড়ি রয়েছে। ফলে নেপালের অন্যতম বৃহৎ ৪৫৬ মেগাওয়াটের ‘আপার তামাকোশি’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ একটি চীনা প্রতিষ্ঠান করায় ভারত আজও তা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির অনুমোদন দেয়নি।

এনইএ-র সাবেক নির্বাহী পরিচালক কুলমান ঘিসিং মনে করেন, এ ধরনের বাধা কাটাতে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি জোরদার কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন। 

উল্লেখ্য, বিগত অর্থবছরে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি করে বড় অঙ্কের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বন্যা এবং আঞ্চলিক সঞ্চালন জটিলতা নেপালের আঞ্চলিক জ্বালানি হাব হয়ে ওঠার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।