জাতীয় দলের স্বপ্ন থেকে চট্টগ্রামের ভয়ংকর সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৯ এএম
শেয়ার করুন:
জাতীয় দলের স্বপ্ন থেকে চট্টগ্রামের ভয়ংকর সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

হাতে ছিল ক্রিকেট বল, চোখে ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর লালিত স্বপ্ন। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি ও বাকলিয়া মাঠে বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিন দিয়ে নজর কেড়েছিলেন সবার। তবে সেই সম্ভাবনাময় তরুণই আজ চট্টগ্রামের ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের একজন। নাম তার মোবারক হোসেন ইমন, যিনি অপরাধ জগতে পরিচিত ‘ডেভিড ইমন’ নামে। 

খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চট্টগ্রামে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে অবশেষে তিন সহযোগীসহ যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কোতোয়ালি মডেল থানা ও যশোর জেলা পুলিশের সমন্বয়ে দীর্ঘ নজরদারির পর এ সফল অভিযান পরিচালিত হয়।

যেভাবে অপরাধ জগতে পা রাখা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর চট্টগ্রাম নগরী ও জেলাজুড়ে নতুন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জোরদার করেন ইমন। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে ওঠেন তিনি। নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও এবং জেলার রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে নেতৃত্ব দিতেন ইমন।

পুলিশ জানায়, ইমন অস্ত্র পরিচালনায় অত্যন্ত পারদর্শী। একাধিক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তোলা তার ১৫-২০টি ছবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসেছে। 

পুলিশের নথিপত্র অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে:
২৮ আগস্ট ২০২৪: চট্টগ্রামে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলা।
৩০ মার্চ ২০২৫: বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া খুন।
২৩ মে ২০২৫: পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যাকাণ্ড।
এছাড়া সম্প্রতি নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায়ও তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

স্বপ্ন ভাঙার অতীত গল্প
স্থানীয় ও ইমনের পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে বড় হন ইমন। কিন্তু ক্রিকেটকে ভালোবেসে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম শহরের ‘ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমিতে’ যোগ দেন তিনি। ভারতের তারকা স্পিনার কুলদীপ যাদবের ভক্ত ইমন তার বোলিং অ্যাকশন হুবহু অনুকরণ করতেন। 

ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমির কোচ আমিনুল হক ইমনের এই বদলে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “ইমন খুব শান্ত ও লাজুক স্বভাবের ছেলে ছিল। অনুশীলনে বেশ মনোযোগ ছিল তার। কিন্তু করোনা মহামারির পর থেকে আর তার দেখা পাওয়া যায়নি। পরে গণমাধ্যমে ‘ডেভিড ইমন’ নামে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে তার গ্রেফতারের খবর দেখে আমরা হতবাক হয়ে যাই। অবিশ্বাস্য হলেও সেই ছেলেটিই ছিল আমাদের শান্ত ইমন।”

সবুজ ক্রিকেট মাঠের আলো ছেড়ে অন্ধকার জগতে পা দেওয়া ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।