স্বামীর পরকীয়ার সন্দেহে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি শ্বাসরোধে হত্যা

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১১:০১ এএম
শেয়ার করুন:
স্বামীর পরকীয়ার সন্দেহে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি শ্বাসরোধে হত্যা

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শান্তা রানী দাস (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা নয়, স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের নাথ পাড়ার গণেশের বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট এলাকার জেলে বাড়ির বাসিন্দা ও নিহতের বাবা অনন্ত জলদাস জানান, চার বছর আগে পারিবারিক ভাবে শান্তার সঙ্গে সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের নাথ পাড়ার গণেশের বাড়ির নিমাই দেব নাথের ছেলে বাপ্পী দেব নাথের (২৯) বিয়ে হয়। তাদের ১৮ মাস বয়সী বর্ষা দেব নাথ নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বাপ্পী আগে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে গার্মেন্টসের এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাকরি ছেড়ে এলেও ওই নারীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এ নিয়ে সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় এবং বাপ্পী শান্তাকে মারধর করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝগড়ার পরে রাতে শান্তা স্বামীর জেঠা গণেশের ঘরে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে তাকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে বেলা ১১টার বাপ্পী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বাপ্পী দেব নাথের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।