স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ: হাতিয়া উপজেলা যুবদল আহ্বায়ককে শোকজ

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১১ এএম
শেয়ার করুন:
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ: হাতিয়া উপজেলা যুবদল আহ্বায়ককে শোকজ

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং সহযোদ্ধাকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেন ইলিয়াসকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। 

শনিবার যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শন, সংগঠনের সহযোদ্ধা (পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম) অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করা এবং নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর হাতিয়া উপজেলা সুপারমার্কেটে একটি বিরোধ মীমাংসার সালিশ বৈঠক চলাকালে হট্টগোল শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ও তার অনুসারীরা পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পক্ষ কেন্দ্রীয় যুবদলের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শোকজ নোটিশ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, "সুপারমার্কেটে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নজরুলের ভাইয়ের সঙ্গে পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকাররম বিল্লাহ শাহাদাতের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য বসা সালিশে নজরুলের নেতৃত্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। খবর পেয়ে সংঘাত থামাতে গেলে নজরুলের সঙ্গে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুরো বিষয়টি বিকৃত করে কেন্দ্রে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।"

এদিকে চরাঞ্চলে দস্যুবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক ও খাওয়া-দাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চরাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দখলদারি প্রতিরোধে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শোকজের লিখিত জবাব দাখিল করবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।