টঙ্গী ইজতেমা ময়দান নিয়ে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশের ৫ দফা দাবি

অনলাইন ডেস্কঃ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৪৭ পিএম
শেয়ার করুন:
টঙ্গী ইজতেমা ময়দান নিয়ে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশের ৫ দফা দাবি

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার দ্রুত বিচার, জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি এবং ময়দানে সাদপন্থীদের সকল কার্যক্রম ও প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’। দাবি মানা না হলে সারা দেশের আলেমসমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এক জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ আলেম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও তাবলিগের সাথীরা অংশ নেন।

সম্মেলনে উত্থাপিত ৫ দফা দাবিগুলো হলো—

১. **দ্রুত বিচার ও মনিটরিং সেল গঠন:** টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংঘর্ষে নিহতদের ঘটনার দ্রুত বিচার করতে হবে। এ-সংক্রান্ত জিআর মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে হবে। বিষয়টিকে সাধারণ সংঘাত হিসেবে না দেখে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

২. **পূর্বের সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখা:** ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমার আগে তৎকালীন সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। যেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—২০২৫ সালের ইজতেমাই হবে টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের শেষ ইজতেমা এবং এরপর তারা টঙ্গী ময়দানে কোনো বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। 

৩. **সাদপন্থীদের প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:** ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পুনরাবৃত্তি এড়াতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ময়দানে প্রবেশ বা উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. **অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি:** সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের রাজনৈতিক বা দলীয় পক্ষ বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সহিংসতা চালানোর সাহস না পায়।

৫. **আলেমদের তত্ত্বাবধানে তাবলিগ পরিচালনা:** শীর্ষস্থানীয় আলেম-মাশায়েখ ও মুফতিদের পরামর্শ নিয়ে দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান সংকটগুলোর স্থায়ী সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা ও কাকরাইল মারকাজ ‘শূরা নিজাম’ ও শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। লিখিত বক্তব্যে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিতর্কিত বক্তব্য ও অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলা হয়, তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের কাছে তওবা করে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আসার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।

বক্তারা বলেন, দাওয়াত ও তাবলিগ একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় বিষয়। তাই কোনো পক্ষের আবেগকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমসমাজের মতামতকে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হলে দেশের স্থিতিশীলতা ও দ্বীন রক্ষার স্বার্থে সারা দেশের তৌহিদি জনতা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমী এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারী।

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন (হাটহাজারী), মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মাশায়েখরা। সম্মেলন শেষে দেশ ও জাতির শান্তি এবং তাবলিগের সঠিক ধারা বজায় রাখার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।