শেখ হাসিনা ছিলেন ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

অনলাইন ডেস্কঃ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:৪২ পিএম
শেয়ার করুন:
শেখ হাসিনা ছিলেন ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একদিকে শেখ হাসিনা নিজে গুমের নির্দেশ দিতেন, অন্যদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ডেকে নিয়ে সহানুভূতি দেখানোর নাটক করতেন।

শনিবার ভোলার লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজের আয়োজনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী-সন্তানদের গণভবনে ডেকে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন শেখ হাসিনা। তাদের আশ্বস্ত করতেন যে নিখোঁজদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অথচ তিনি নিজেই জানতেন তারা কোথায় আছেন। তার ভেতরেই গুমের হিংস্র মনোভাব লুকিয়ে ছিল। কিন্তু স্বজনদের সামনে তিনি এমন অভিনয় করতেন, যেন তাদের উদ্ধারের বিষয়ে তিনি নিজেই খুব উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে জনগণের কাছে তার এই দ্বিমুখী রূপ এখন পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে গেছে।”

গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত শাসনামলে একজন ব্যারিস্টারকে টানা আট বছর হাতকড়া পরিয়ে আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। তার ওপর যে নির্মম ও জঘন্য নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কল্পনাও করা যায় না। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরই তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য।”

বিগত সরকারের সময়ে সংঘটিত মেগা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। এমনকি সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনেই ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কাজ না করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।”

লালমোহনের অতীতের রাজনৈতিক দমনপীড়নের কথা স্মরণ করে স্পিকার বলেন, “২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছিল। সে সময় হাসপাতালে গিয়েও তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি।”

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নিজের সার্বিক দায়িত্ব পালনে স্থানীয় জনগণ সন্তুষ্ট কি না—তা জানতে সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেন তিনি। এতে উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।