১৮০০ টাকা বাঁচাতে ৯ বন্ধু উঠেছিলেন ট্রাকে, দুর্ঘটনায় পথে হারালেন প্রাণ

অনলাইন ডেস্কঃ
May 25, 2026 - 14:06
১৮০০ টাকা বাঁচাতে ৯ বন্ধু উঠেছিলেন ট্রাকে, দুর্ঘটনায় পথে হারালেন প্রাণ

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কর্মস্থল নোয়াখালী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। বাসের অতিরিক্ত ১৮০০ টাকা ভাড়া বাঁচাতে নয় বন্ধু মিলে চড়েছিলেন পণ্যবাহী ট্রাকে। কিন্তু কে জানত, সামান্য কিছু টাকা সাশ্রয়ের এই সিদ্ধান্তই তাদের জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হবে!

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার একই এলাকার বাসিন্দা এবং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো মান্দা উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা রডবোঝাই একটি ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকটি রাস্তার পাশে খাদে উল্টে পড়ে। রডের ভারে চাপা পড়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে ১৫ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের পরিচয়:
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১ নম্বর ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন বাসিন্দা রয়েছেন। তারা হলেন— রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক, আব্দুল বারেক, বাদশা, সোহাগ, রবিউল ও সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের দুই ভাই মাইনুল ও গিয়াস।

একবুক স্বপ্ন ও শেষ আর্তনাদ:
নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তার ছেলেসহ বন্ধুরা নোয়াখালীতে ফেরি করে পরিত্যক্ত চুল, পুরনো মোবাইল ও প্লাস্টিকের খেলনা কেনাবেচা করতেন। ঈদের ছুটিতে সবাই মিলে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসের ভাড়া ১৮০০ টাকা বেশি চাওয়ায় খরচ কমাতে তারা ফেনী থেকে এই রডবোঝাই ট্রাকে উঠেছিলেন। সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে তাদের সব স্বপ্ন মাটির নিচে চলে গেল।

এলাকায় শোকের মাতম:
একই ইউনিয়নের ৯ টগবগে যুবকের এমন অকাল মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো জেলায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহতদের অধিকাংশ ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনরা নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।

সামান্য ভাড়ার সাশ্রয় যে এতটা করুণ পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারছেন না স্বজনরা। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন— আর কত প্রাণ গেলে নিরাপদ হবে আমাদের পথ?

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow