কাজের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ মাদারগঞ্জের দুই যুবক

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ১:১৩ পিএম
শেয়ার করুন:
কাজের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ মাদারগঞ্জের দুই যুবক

সংসারের অভাব-অনটন দূর করে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। কিন্তু সেই সোনালী স্বপ্ন এখন তাঁদের পরিবারের জন্য চরম দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। গত ২৯ মে থেকে এই দুই যুবকের কোনো খোঁজ মিলছে না। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে ড্রোন হামলায় তাঁদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সরকারি বা কূটনৈতিক কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রিয়জনদের নিখোঁজ হওয়া এবং মৃত্যুর এমন আশঙ্কায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এখন চরম উদ্বেগ ও শোকের মাতম চলছে।

নিখোঁজ হওয়া ওই দুই যুবক হলেন— মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) এবং সিধুলী ইউনিয়নের রায়ের ছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (২৭)।

প্রলোভন ও প্রতারণার শিকার:  
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে উন্নত কাজের আশায় রাশিয়ায় যান মাফুল ও আরিফ। মাফুলকে চাঁদপুরের এক দালালের মাধ্যমে এবং আরিফকে স্থানীয় দালাল আমিনুর ইসলাম সুজার মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। তাঁদের রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতারক চক্র চুক্তিমতো কাজ না দিয়ে তাঁদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে এবং জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেয় বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোনে অভিযোগ করেছিলেন তাঁরা। স্বজনদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে দালালচক্র তাঁদের রুশ বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। 

শেষ যোগাযোগ ও মৃত্যুর গুঞ্জন:  
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৯ মে শেষবারের মতো তাঁদের সঙ্গে কথা হয়। এরপর থেকেই দুজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে স্বজনরা জানতে পারেন যে, সম্মুখ সমরে ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এই খবর আসার পর থেকেই পরিবারগুলোতে কান্নার রোল পড়েছে।

নিখোঁজ মাফুলের মা মাহফুজা বেগম বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, "আমার ছেলে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি সে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলের লাশ দেশে ফেরত চাই। আর যারা আমার ছেলেকে প্রলোভন দেখিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, আমি তাদের কঠোর বিচার চাই।"

মাফুলের বোন কণিকা জানান, রাজমিস্ত্রির কাজের কথা বলে তাঁর ভাইকে নেওয়া হলেও সেখানে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। শেষ ফোনে কেঁদে কেঁদে তাঁকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিলেন মাফুল।

অন্যদিকে, আরিফের বাবা তারা মিয়া জানান, স্থানীয় দালালকে ১৬ লাখ টাকা ঋণ করে দিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের আশায় ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। এখন ছেলের খোঁজ না পেয়ে তাঁরা দিশেহারা। আরিফের চাচাতো ভাই আনন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত দালালচক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য:  
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। যথাযথ দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে এভাবে স্থানীয় দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে বিদেশে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সব ধরনের সহায়তা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।