মা-বাবার জন্য ছেলের পাঠানো ওষুধ আনতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাবার

মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
৩১ জুলাই, ২০২৬ ৬:২৬ পিএম
শেয়ার করুন:
মা-বাবার জন্য ছেলের পাঠানো ওষুধ আনতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাবার

একজন সন্তানের ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়ে পাঠানো ওষুধ—কিন্তু সেই ওষুধ আর হাতে নেওয়া হলো না বাবার। বরং ওষুধ আনতে গিয়েই নির্মম রেলপথ দুর্ঘটনার মতো এক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় না-ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।

এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের শ্রীপুর চাচিমনদের বাড়ি ১নং ওয়ার্ডের এলাকাজুড়ে।

মরহুম মো. গাজীউর রহমান (৬৫) গতকাল ৩০ শে জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ছেলের পাঠানো ওষুধ গ্রহণ করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে গাজীউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের একমাত্র ছেলে মোঃ আবু বক্কর যিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য, নিজের এক সহকর্মীর মাধ্যমে বাবা-মায়ের জন্য এক মাসের ওষুধ পাঠান। এবং ছেলের অনুরোধে গাজীউর রহমান আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ওষুধ গ্রহণ করতে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—ছেলের পাঠানো ওষুধ হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরা আর হলো না। স্টেশন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মো. গাজীউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত সৎ, ধর্মপ্রাণ ও সদালাপী একজন মানুষ। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সরাসরি মসজিদে গিয়ে জামাতে আদায় করতেন, সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজখবর রাখতেন। তাঁর বিনয়ী আচরণ ও মানবিক গুণাবলীর জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় একজন মানুষ।

তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। শোকাহত এলাকাবাসী বলেন, "আমরা একজন ভালো মানুষকে হারিয়েছি। তাঁর মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া কঠিন। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস এর উচ্চ মাকাম দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করেন।"

মরহুম মো. গাজীউর রহমান এর মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, পাঁচ মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

একটি সন্তানের ভালোবাসা ছিল বাবা-মায়ের সুস্থতার জন্য ওষুধ পাঠানো। কিন্তু সেই ভালোবাসার ওষুধ আনতে গিয়েই বাবা চিরবিদায় নিলেন।

জীবনের অনিশ্চয়তার এমন নির্মম বাস্তবতা সত্যিই হৃদয় বিদারক। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মৃত্যু কখন, কোথায় এবং কীভাবে এসে উপস্থিত হবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন।

মরহুম এর একমাত্র ছেলে পুলিশ সদস্য মোঃ আবু বক্কর জানান,আপনারা সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ পাক যেন আমার বাবাকে মাফ করে বেহেশত নসিব করে।

অন্য দিকে মরহুম এর আত্মীয় স্বজনরা সবার কাছে বিনীত অনুরোধ, মরহুম মো. গাজীউর রহমানের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবাই দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করেন। আমিন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।