আত্রাইয়ে সেন আমলের সিদ্ধেশ্বরী মন্দির সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণার দাবি

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:১৯ পিএম
শেয়ার করুন:
আত্রাইয়ে সেন আমলের সিদ্ধেশ্বরী মন্দির সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণার দাবি

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বান্দাইখাড়ায় অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছরের প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে নথিভুক্ত করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যাচাই করে প্রাচীন এ স্থাপনাটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হলে এটি নওগাঁর অন্যতম সম্ভাবনাময় ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় সরকারি তথ্য বা বাতায়ন সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস দ্বাদশ শতাব্দীর সেন রাজবংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা বল্লাল সেনের শাসনামলে (আনুমানিক ১১৬০–১১৭৮ খ্রিস্টাব্দ) বান্দাইখাড়ায় স্থানীয়দের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে একটি বিশাল দীঘি খনন করা হয় এবং এর পাশেই প্রতিষ্ঠা করা হয় সিদ্ধেশ্বরী মন্দির। সেই হিসেবে মন্দিরটির বয়স প্রায় সাড়ে আটশত থেকে নয়শত বছর। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন এ স্থাপত্যটি।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, নওগাঁর প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বান্দাইখাড়ার নাম বিশেষভাবে জড়িয়ে রয়েছে। একসময় এটি ছিল এই অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ১৮৭৫ সালে বর্তমান নওগাঁ জেলা এলাকার একটি বড় অংশ বান্দাইখাড়া থানার অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে ১৮৭৬ সালে থানাটি নওগাঁ সদরে স্থানান্তর করা হয়। 

প্রাচীন সমৃদ্ধ এই ইতিহাসের কারণে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরটির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ও অনুসন্ধান জরুরি বলে মনে করছেন গবেষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। 

স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী, ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে এটিকে সরকারের ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করে সীমানা নির্ধারণ, মূল কাঠামোর বিজ্ঞানসম্মত সংস্কার ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিমত, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে টিকে থাকবে না, বরং তা নতুন প্রজন্মের কাছে বরেন্দ্র অঞ্চলের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি নওগাঁর পর্যটন খাতকেও আরও সমৃদ্ধ করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।