এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
‘পরবাসে কখনো নিজের বাড়ির মতো অনুভূতি মেলে না। মাটি আর আপন মানুষের টান সবসময় তাড়িয়ে বেড়াত। নিজের দেশে ফিরে আসতে পেরে আজ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছি।’
দীর্ঘ চার বছর ভারতের মিজোরামে উদ্বাস্তু জীবন কাটিয়ে জন্মভূমিতে ফিরে এভাবেই স্বস্তি ও আবেগ প্রকাশ করলেন ভানরৌখম বম। কেবল তিনিই নন, তাঁর মতো বম সম্প্রদায়ের তিনটি পরিবারের মোট ১৮ জন সদস্য দীর্ঘ নির্বাসন শেষে অবশেষে ফিরেছেন বান্দরবানের থানচির নিজ পাড়ায়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর বাকলাই পাড়া ক্যাম্পের সহায়তায় এই তিন পরিবারের সদস্যদের থানচি সদর ইউনিয়নের শেরকর ও প্রাতা পাড়ায় নিরাপদে পুনর্বাসন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরীর নেতৃত্বে ফিরে আসা সদস্যদের তাঁদের নিজ গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় শেরকর পাড়ার কারবারি (গ্রামপ্রধান) তুমথন বম এবং প্রাতা পাড়ার কারবারি পার্কেল বম উপস্থিত থেকে তাঁদের বরণ করে নেন।
ফিরে আসা পরিবারগুলোর মধ্যে শেরকর পাড়ার দুটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা যথাক্রমে ৭ ও ৮ জন এবং প্রাতা পাড়ার অপর পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৩ জন। পরিবারগুলোতে নারী ও পুরুষের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোরও রয়েছে।
নিরাপদে বাড়ি ফেরা অন্য দুই পরিবারের প্রধান রুয়াতখুপ বম (৪৬) ও লালচম বম (৫৫) জানান, পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চীন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) তাণ্ডব, গোলাগুলি এবং ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে জীবন বাঁচাতে তাঁরা বাধ্য হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে নানা কষ্টে দিন পার করলেও মন পড়ে থাকত জন্মভূমিতে। সম্প্রতি বম সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে আস্থা রেখে তাঁরা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ভারতের মিজোরামের শিলকর থেকে রাঙামাটির শিলকোপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এই ১৮ জন। সেখানে ১২ বিজিবির ঠেগামুখ বিওপির সদস্যরা তাঁদের হেফাজতে নেন। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় বান্দরবান সেনা রিজিয়নের একটি দল তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে থানচির বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পে পাঠায়।
এদিকে ঘরে ফেরার মুহূর্তে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী। নিজ পাড়ায় পাঠানোর আগে বাকলাই পাড়া ক্যাম্পের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ৫০ কেজি চাল, ১০ কেজি ডাল, ৫ কেজি তেল, পেঁয়াজ, আলু ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া নতুন করে বসত শুরুর সুবিধার্থে একটি করে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এবং হাঁড়ি-পাতিল, বালতি, প্লেট-গ্লাসসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি তৈজসপত্র প্রদান করা হয়।
দীর্ঘদিন পর জন্মমাটির ঘ্রাণ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফিরে আসা মানুষগুলো। অতীতের অনিশ্চয়তা আর সংঘাতের দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে, সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ও সহায়তায় এবার নিজ পাড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে শান্তিতে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
বান্দরবান | ২৮ জুন, ২০২৫
নওগাঁ | ২০ জুলাই, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নওগাঁ | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মুন্সীগঞ্জ | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।