আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন ও সন্তান নষ্টের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে বিচারের দাবি

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:২৭ পিএম
শেয়ার করুন:
আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন ও সন্তান নষ্টের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে বিচারের দাবি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক দাবি, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সুপ্তি আক্তার নামে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। 

আজ রবিবার সকালে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলার বড় বাশাইল গ্রামের মোঃ ইব্রাহীম মোল্লার মেয়ে সুপ্তি আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় তাঁর ছোট বোন জান্নাত আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সুপ্তি আক্তার জানান, প্রায় নয় বছর আগে উপজেলার রাজিহার এলাকার শাহাদাৎ ফকিরের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বর্তমানে তিন বছর চার মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী শাহাদাৎ তাঁর পরিবারের কাছে দুই থেকে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। 

সুপ্তি আক্তার অভিযোগ করেন, স্বামীর চাচা বিএনপি নেতা কামরুল ফকিরের প্রভাব ও কুপরামর্শেই তাঁর ওপর এসব নির্যাতন চালানো হতো। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর রাতে স্বামী শাহাদাৎ ফকির যৌতুকের জেরে তাঁর পেটে সজোরে লাথি মারেন। এতে রক্তক্ষরণ হয়ে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ওই সময় তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতেও বাধা দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রতিকার চেয়ে তিনি চলতি বছরের ১৩ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং: ৩৬৮/২৬)। এছাড়া বিএনপি নেতা কামরুল ফকির ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এ নারী।

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্তি আক্তার অভিযুক্ত স্বামী শাহাদাৎ ফকির, চাচাশ্বশুর কামরুল ফকির, শাহে আলম ফকির, মনিরুজ্জামান ফকির ও সাহারুল ফকিরের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিজের ও শিশু সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।